খ্যাতনামা আইনজীবী সানা রইস খানের মাধ্যমে তিনি এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। শিল্পার মূল অভিযোগ, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং ওয়েবসাইটে তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করে অবৈধভাবে বাণিজ্যিক ফায়দা লোটা হচ্ছে, যা তাঁর দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনামের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তারকাদের ছবি বিকৃত করার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্পা শেঠিও এই সাইবার জালিয়াতির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, এক শ্রেণির অসাধু চক্র প্রচারের স্বার্থে তাঁর ভুয়া ছবি এবং ভিডিও তৈরি করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এগুলো কেবল বিভ্রান্তিকরই নয়, বরং একজন নারী ও শিল্পী হিসেবে তাঁর মর্যাদাহানিকর।
এই অনৈতিক কার্যকলাপের ফলে একদিকে যেমন তাঁর সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে তাঁর ব্র্যান্ড ভ্যালু বা ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিল্পার আইনজীবী সানা রইস খান আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, একজন তারকার খ্যাতি তাঁর সারা জীবনের কঠোর পরিশ্রম ও সাধনার ফসল।
কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অনুমতি ছাড়া সেই খ্যাতি ব্যবহার করে নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিল করতে পারে না। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, শিল্পা শেঠির ছবি বা ভিডিওর এমন যথেচ্ছ ব্যবহার ‘ব্যক্তিত্বের অধিকার’ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। তাই আদালত যেন অবিলম্বে এই ধরনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে এবং অভিনেত্রীর মেধাস্বত্ব ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় যথাযথ নির্দেশনা প্রদান করে।
বলিউডে তারকারা নিজেদের অধিকার রক্ষায় আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন তাঁর ব্যারিটোন কণ্ঠস্বর এবং ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতের রায় পেয়েছিলেন। এছাড়া অভিষেক বচ্চন, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন এবং হৃতিক রোশনের মতো শীর্ষস্থানীয় তারকারাও একই ইস্যুতে আইনি সুরক্ষা চেয়েছেন।
ডিজিটাল যুগে যখন ‘ডিপফেক’ এবং পরিচয় চুরির মতো সাইবার অপরাধ বাড়ছে, তখন শিল্পা শেঠির এই আইনি পদক্ষেপ বলিউডের অন্য তারকাদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির এবং সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন আইন ও বিনোদন জগতের বিশ্লেষকরা। ব্যক্তিগত জীবনে নানা চড়াই-উতরাই থাকলেও নিজের পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় শিল্পার এই দৃঢ় পদক্ষেপ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।