সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তুরস্ক-কুর্দি সংঘাতের অবসানে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট, ২০২৫, ১১:০৮ এএম

তুরস্ক-কুর্দি সংঘাতের অবসানে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ
ফাইল ছবি

তুরস্কে চার দশকের রক্তক্ষয়ী কুর্দি সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো। কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) এর সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া তদারকি করতে গঠিত নতুন সংসদীয় কমিটি আজ (মঙ্গলবার) তাদের প্রথম বৈঠকে বসেছে। তুরস্কের সংসদ স্পিকার নুমান কুরতুলমুস এই ঘটনাকে একটি ‘ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ’ এবং ‘নতুন যুগের সূচনা’ বলে অভিহিত করেছেন।

 

বিভিন্ন প্রধান রাজনৈতিক দলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত এই ৫১ সদস্যের কমিটি শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় আইনি ও রাজনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাবনা এবং তদারকির দায়িত্ব পালন করবে। বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তব্যে স্পিকার নুমান কুরতুলমুস বলেন, "এখানে যে কমিশন একত্রিত হয়েছে, তা কোনো সাধারণ প্রতিনিধিদল নয়; এটি একটি ঐতিহাসিক কমিশন, যা আমাদের ভবিষ্যৎকে মেরামত করার সাহস এবং সামাজিক একতাকে শক্তিশালী করার ইচ্ছার প্রতিফলন।

 

এই শান্তি প্রক্রিয়ার সূত্রপাত হয় পিকেকে-র সশস্ত্র সংঘাত ত্যাগ করে সংগঠন ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর। গত মাসে উত্তর ইরাকে এক প্রতীকী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা অস্ত্র ত্যাগ করা শুরু করে, যা নিরস্ত্রীকরণের পথে প্রথম বাস্তব পদক্ষেপ। কারাবন্দী কুর্দি নেতা আবদুল্লাহ ওজালানের আহ্বানেই পিকেকে এই সংঘাত অবসানের পথে হাঁটে। ১৯৯৯ সাল থেকে কারারুদ্ধ ওজালান গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁর অনুসারীদের অস্ত্র ত্যাগ করে সংগঠন ভেঙে দেওয়ার জন্য একটি কংগ্রেস আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

 

উল্লেখ্য, পিকেকে ১৯৮৪ সাল থেকে তুরস্কের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে আসছিল। প্রাথমিকভাবে তাদের লক্ষ্য ছিল দেশের দক্ষিণ-পূর্বে একটি স্বাধীন কুর্দি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যা পরে তুরস্কের মধ্যেই কুর্দিদের জন্য স্বায়ত্তশাসন এবং অধিকার আদায়ের আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়। এই দীর্ঘ সংঘাতে তুরস্ক, ইরাক এবং সিরিয়ায় হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন পিকেকে-কে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে। এর আগেও বেশ কয়েকবার শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ব্যর্থ হয়েছিল, যার মধ্যে সর্বশেষ প্রচেষ্টাটি ছিল ২০১৫ সালে। তাই এবারের সংসদীয় কমিটির এই যাত্রা দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

---

এপি নিউজ