রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সে মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে ব্যাপক সহিংসতা, ট্রাম্পের তীব্র কটাক্ষ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৬ এএম

ফ্রান্সে মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে ব্যাপক সহিংসতা, ট্রাম্পের তীব্র কটাক্ষ
ছবি : Collected

ইউরোপের অন্যতম সমৃদ্ধশালী, শিল্পোন্নত ও ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্র ফ্রান্সে বর্তমানে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা, অরাজকতা ও চরম সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশজুড়ে প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের শুরু করা শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন এখন এক ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।

 

রাজধানী প্যারিসসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ব্যাপক লুটপাট ও ভয়াবহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে যে, ফরাসি রাজপথগুলো যেন মুহূর্তে পরিণত হয়েছে ভয়ংকর এক রণক্ষেত্রে।

 

আর ঠিক এমন এক নাজুক, স্পর্শকাতর ও সংকটময় মুহূর্তে ফ্রান্সের এই টালমাটাল পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উপহাস ও রাজনৈতিক কটাক্ষ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ফ্রান্সের বর্তমান নৈরাজ্যকর অবস্থাকে ইঙ্গিত করে দেশটিকে ‘বিপ্লবের জন্য সম্পূর্ণ উপযুক্ত জায়গা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং কূটনৈতিক মহলে নতুন করে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

 

বিগত বেশ কয়েক মাস ধরেই ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছিল। মূলত দেশের সাধারণ নাগরিকদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং খাদ্য, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সম্পূর্ণ বাইরে চলে যাওয়ায় এই জন-অসন্তোষের সূত্রপাত ঘটে।

 

এর আগে ফ্রান্সের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও তাদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া, আবাসন সংকট এবং শিক্ষা খাতের ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজপথে অবস্থান নিয়ে লাগাতার বিক্ষোভ প্রদর্শন করে আসছিলেন।

 

তরুণ শিক্ষার্থীদের সেই আন্দোলনের রেশ সম্পূর্ণ কাটতে না কাটতেই এবার সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ, খেটে খাওয়া জনতা ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন তীব্র ক্ষোভ নিয়ে রাজপথে নেমে আসে। তাদের মূল ও প্রধান দাবি ছিল সমাজে চলমান মারাত্মক অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরে মানুষের বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করা।

 

কিন্তু সরকারের নীতি-নির্ধারকদের তরফ থেকে সময়মতো সন্তোষজনক ও কার্যকর কোনো সাড়া না পাওয়ায় সেই পুঞ্জীভূত জনরোষ শেষ পর্যন্ত দেশজুড়ে এক ভয়াবহ গণবিক্ষোভে বিস্ফোরিত হয়।

 

শনিবার ফ্রান্সজুড়ে আয়োজিত এই বিশাল পদযাত্রা ও বিক্ষোভ কর্মসূচি একপর্যায়ে চরম ও অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতায় রূপ নেয়। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া এই আন্দোলন মুহূর্তের মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

 

ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা রাজধানী প্যারিস থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত শহরগুলোর রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরি করে নজিরবিহীন তাণ্ডব চালাতে শুরু করে। রোববার সকালে ফ্রান্সের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরের রাস্তাঘাটের চিত্র ছিল রীতিমতো ভয়াবহ ও আতঙ্কজনক।

 

চারদিকে কেবলই ধ্বংসযজ্ঞের স্পষ্ট চিহ্ন। পুড়ে যাওয়া দামি গাড়ি, ভাঙা কাঁচ, উপড়ে ফেলা সড়ক বিভাজক, ভস্মীভূত ডাস্টবিন এবং ইট-পাথরের কারণে শহরের প্রধান ও সুপরিচিত সড়কগুলো রীতিমতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা যায়।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং মারমুখী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের শক্তি প্রয়োগ করতে এবং ব্যাপক বেগ পোহাতে হয়। বাধ্য হয়ে দাঙ্গা পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর মুহুর্মুহু কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং অত্যন্ত শক্তিশালী জলকামান ব্যবহার করে, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তোলে এবং পুরো শহরকে রণক্ষেত্রের রূপ দেয়।

 

এই নজিরবিহীন বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা নিয়ে ফরাসি সরকার এবং আন্দোলনকারী শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে বিস্তর ও উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্য দেখা গেছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া আনুষ্ঠানিক হিসাব ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শনিবারের এই দেশব্যাপী বিক্ষোভে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার সাধারণ মানুষ সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।

 

তবে দেশটির অন্যতম প্রধান, ঐতিহাসিক ও প্রভাবশালী শ্রমিক সংগঠন ‘সিজিটি’ সরকারের এই পরিসংখ্যানকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটি জোরালোভাবে দাবি করেছে যে, বিক্ষোভে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণকারী সাধারণ মানুষের প্রকৃত সংখ্যা ছিল অন্তত আট লাখ। অংশগ্রহণকারীদের এই বিশাল পরিসংখ্যান থেকেই খুব সহজে অনুমান করা যায় যে, ফ্রান্সের সাধারণ জনগণের মধ্যে অর্থনৈতিক দুর্দশা নিয়ে ঠিক কতটা গভীর ক্ষোভ, বঞ্চনা ও হতাশা বিরাজ করছে।

 

লাখ লাখ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত ও রুদ্ররোষপূর্ণ অংশগ্রহণ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিক্ষোভকারীদের এই অনিয়ন্ত্রিত ক্ষোভের আগুন থেকে রক্ষা পায়নি ফ্রান্সের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোও।

 

প্যারিস শহরের মেয়র আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে অত্যন্ত হতাশার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, বিক্ষুব্ধ ও নিয়ন্ত্রনহীন জনতা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় পার্ক করে রাখা অসংখ্য ব্যক্তিগত ও সরকারি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং রাস্তার পাশের অসংখ্য নামিদামি দোকানপাটে নির্বিচারে ব্যাপক লুটপাট চালায়।

 

এর ফলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের অপূরণীয় মাত্রায় আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনাটি ঘটেছে ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ লিমোজ শহরে। সেখানে মুখোশধারী একদল চরমপন্থী ও উগ্র বিক্ষোভকারী ১৪০ বছরেরও বেশি পুরোনো একটি ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক টাউন হলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

 

এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে প্রাচীন ভবনটির স্থাপত্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। শুধু লিমোজ নয়, মার্সেই এবং লিলের মতো অত্যন্ত বড়, ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর টাউন হলেও বিক্ষোভকারীরা ব্যাপক ভাঙচুর ও নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।

 

এছাড়া পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় লিওঁ শহরের একটি অন্যতম প্রধান পর্যটন কার্যালয়েও আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রমাণ করে যে, বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ কেবল সরকারের অর্থনৈতিক নীতির মধ্যেই আর সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোগুলোর ওপরও তীব্রভাবে আছড়ে পড়ছে।

 

ফ্রান্সের এই অভ্যন্তরীণ চরম সংকটময় ও সংবেদনশীল মুহূর্তটিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজেদের বক্তব্যের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে সামান্যতম ছাড় দেননি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্ব। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার স্বভাবসুলভ ও তীক্ষ্ণ ভঙ্গিতে ফ্রান্সের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উপহাস করেছেন।

 

ফ্রান্সের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন চরম অবনতি এবং রাজপথের এই নৈরাজ্যকর অবস্থার প্রতি সরাসরি ইঙ্গিত করে তিনি অত্যন্ত বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্র মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার খোঁচাপূর্ণ বক্তব্যে বলেন, "চলো ফ্রান্সে যাই। দারুণ জায়গা!

 

কোনো দাঙ্গা নেই, বিপ্লব নেই। আসলে, ফ্রান্স তো বিপ্লব ঘটানোর জন্য একেবারে আদর্শ জায়গা! অবিশ্বাস্য! চলো ফ্রান্সে যাই আর বিপ্লবে যোগ দিই।" ট্রাম্পের এই মন্তব্য কেবল ফ্রান্সের বর্তমান অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেই কটাক্ষ করেনি, বরং ইউরোপের উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দেশগুলোর রাষ্ট্র পরিচালনা পদ্ধতি ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে তার দীর্ঘদিনের সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গিরই একটি অত্যন্ত স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশাপাশি ফ্রান্সের এই চলমান ধ্বংসাত্মক সহিংসতার জন্য দেশটির উদারপন্থী নীতিগুলোকে সরাসরি দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

 

তিনি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে ফ্রান্সের এই সমস্যার মূল কারণ খোঁজার চেষ্টা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক সুদীর্ঘ, তীক্ষ্ণ ও সমালোচনামূলক পোস্টে জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেন যে, ফ্রান্সের এই বর্তমান শোচনীয় পরিণতির জন্য মূলত তাদের ত্রুটিপূর্ণ অভিবাসন নীতি এবং ব্যর্থ একীভূতকরণ প্রক্রিয়াই প্রধানত দায়ী।

 

তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, পশ্চিমা উদারপন্থি নেতারা তথাকথিত বৈচিত্র্য ও সহমর্মিতার ধুয়া তুলে ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বছরের পর বছর ধরে বিপুলসংখ্যক ভিনদেশি অভিবাসীদের এনে জড়ো করেছেন।

 

কিন্তু এই বিশাল সংখ্যক ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির অভিবাসীদের কীভাবে সেই দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও মূলধারার সমাজের সঙ্গে সামাজিকভাবে একীভূত করা যায়, সেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তারা চরমভাবে উপেক্ষা করেছেন।

 

জেডি ভ্যান্সের মতে, সামাজিকভাবে একীভূত হতে না পারার এই চরম ব্যর্থতা এবং সাংস্কৃতিক দূরত্বের কারণেই আজ ফ্রান্সের রাস্তায় এমন ভয়াবহ সংঘাত, সহিংসতা ও নৈরাজ্যের জন্ম দিচ্ছে। এদিকে দেশজুড়ে চলমান এই নজিরবিহীন নৈরাজ্য, অস্থিতিশীলতা ও ধ্বংসযজ্ঞের মুখে অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করেছেন ফ্রান্সের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

 

তিনি জাতির উদ্দেশে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যারা গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে দেশের সরকারি ও বেসরকারি সম্পদের এমন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করছে এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে, তাদের কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

 

ভাঙচুর, নিরীহ ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও গণ-লুটপাটের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রতিটি চিহ্নিত ব্যক্তিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের প্রচলিত কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি দেশের আপামর জনতাকে দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করেছেন।

 

ম্যাক্রোঁ সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো একদিকে কঠোর হাতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং অন্যদিকে সাধারণ জনগণের পুঞ্জীভূত অর্থনৈতিক ক্ষোভ প্রশমিত করার জন্য দ্রুত, কার্যকর ও টেকসই অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন করা।

 

পরিশেষে এটি অত্যন্ত নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিশাল বিক্ষোভ ফ্রান্সের সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনীতির গভীরতর ফাটলগুলোকে আন্তর্জাতিক বিশ্বের সামনে উন্মোচিত করে দিয়েছে।

 

একদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ চরম অর্থনৈতিক সংকট, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সীমাহীন হতাশা ও ক্ষোভ এবং অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে আসা ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জেডি ভ্যান্সের মতো শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক কটাক্ষ-সব মিলিয়ে ফ্রান্স সরকার বর্তমানে এক অভাবনীয় ও বহুমুখী চাপের মধ্যে অবস্থান করছে।

 

আগামী সংকটময় দিনগুলোতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর প্রশাসন কীভাবে এই বহুমুখী ও অত্যন্ত জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এবং দেশের সাধারণ মানুষের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার করে সমাজে পুনরায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়, মূলত তার ওপরই নির্ভর করছে ঐতিহ্যবাহী ফরাসি প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি। সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সঙ্গে ফ্রান্সের এই পরিবর্তনশীল ও অস্থির পরিস্থিতির দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।

 

- এনডিটিভি