রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬
২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট বেছে নেওয়ার সময় এসেছে, বললেন ট্রাম্প

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:২৩ পিএম

ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট বেছে নেওয়ার সময় এসেছে, বললেন ট্রাম্প
ছবি : Collected

আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ভূকৌশলগত অঙ্গনে নতুন করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে তৈরি হওয়া গভীর মতবিরোধকে কেন্দ্র করে। মস্কোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক জ্বালানি তেল চুক্তি নিয়ে কিয়েভের অসন্তোষ প্রকাশের পরপরই ইউক্রেনের বর্তমান নেতৃত্বের কার্যকারিতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কঠোর সমালোচনা করে তিনি প্রকাশ্যেই মন্তব্য করেছেন যে, পূর্ব ইউরোপের যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটির জন্য এখন নতুন একজন রাষ্ট্রপ্রধান বেছে নেওয়ার সময় এসে গেছে।

 

ট্রাম্পের দাবি, জেলেনস্কি ফলপ্রসূ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে বা কার্যকর চুক্তি করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন, আর এই রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার কারণেই রাশিয়ার সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কোনো শান্তিপূর্ণ অবসান ঘটছে না।

 

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন মস্কোর সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের একটি ডিজেল সরবরাহ চুক্তি সম্পন্ন করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জোরালো ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। এই সমালোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই স্থানীয় সময় শনিবার অত্যন্ত চাঁছাছোলা ভাষায় পাল্টা জবাব দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ তোলেন যে, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করার পরিবর্তে বরং সংঘাতকে আরও উসকে দিচ্ছেন ইউক্রেনীয় নেতৃত্ব। বিশেষ করে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে সামরিক হামলার অনুমোদন দিয়ে জেলেনস্কি কার্যত গোটা বিশ্বের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি ব্যবস্থার জন্য নতুন করে জটিল সংকটের সৃষ্টি করতে চাইছেন।

 

এই প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ট্রাম্প দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়ে দেন, ইউক্রেনের জাতীয় রাজনীতিতে এমন একজন নতুন নেতার আগমন প্রয়োজন যিনি প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কূটনৈতিক সমঝোতা ও চুক্তি সম্পাদনের বাস্তবমুখী সক্ষমতা রাখেন।

 

জ্বালানি অবকাঠামোতে সামরিক পদক্ষেপের মারাত্মক আন্তর্জাতিক পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ইউক্রেনকে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কিয়েভকে স্পষ্টভাবে বার্তা দেওয়া হয়েছিল যে ভূরাজনৈতিক বিরোধে যেকোনো কৌশল অবলম্বন করা গেলেও রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোকে নিশানা বানানো যাবে না।

 

কারণ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই কেন্দ্রগুলোতে আক্রমণ হলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়ে এবং সামগ্রিক অর্থনীতি মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। জেলেনস্কির অনমনীয় মনোভাবের সমালোচনা করে ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের সামনে পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা করে বহু সমঝোতা করার সুযোগ খোলা ছিল।

 

কিন্তু অজ্ঞাত কোনো অজানা কারণে জেলেনস্কি সেসব কূটনৈতিক পথে না হেঁটে সংঘাতের পথকেই বেছে নিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশেষভাবে নজর কেড়েছে মস্কোর ইতিবাচক সাড়া।

 

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রেভ ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আখ্যা দিয়ে একে একটি অনন্য ও ঐতিহাসিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

 

রুশ দূতের অভিমত, কিয়েভের শীর্ষপদে এমন একজন দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পদার্পণ ঘটানো জরুরি যিনি ধ্বংসাত্মক সংঘাত দীর্ঘায়িত করার পরিবর্তে টেকসই শান্তির উদ্যোগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন।

 

একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে মস্কোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজেল চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই বিশেষ বাণিজ্যিক বোঝাপড়ার অংশ হিসেবে আগামী বছরের সাতই এপ্রিল পর্যন্ত মস্কোর ওপর বহাল থাকা ডিজেল রপ্তানি সংক্রান্ত যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

ওয়াশিংটনের এই নমনীয় অবস্থান একদিকে যেমন বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে তা যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন ও পশ্চিমা মিত্রদের সামগ্রিক নিরাপত্তা সমীকরণে এক নতুন মেরুকরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

ট্রাম্পের এমন সরাসরি অবস্থান গ্রহণ কেবল কিয়েভের বর্তমান সরকারের ওপর কূটনৈতিক চাপই বাড়াল না, বরং আগামী দিনগুলোতে ইউক্রেন যুদ্ধের গতিপথ ও আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের পূর্বাভাস নিয়ে এল।

 

- বিবিসি