এক্সে (পূর্বতন টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় সিবিহা লিখেছেন, "রুশ সেনাবাহিনীতে বিদেশি নাগরিকদের দুর্ভাগ্যজনক পরিণতি ভোগ করতে হয়। তাদের বেশিরভাগকেই অবিলম্বে তথাকথিত 'মাংসের বর্মে' (মিট অ্যাসল্ট) পাঠানো হয়, যেখানে তারা দ্রুত নিহত হয়।" ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বলছেন, রাশিয়া বিদেশি যোদ্ধাদের নিয়োগ করে নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং তারা আফ্রিকান সরকারগুলোকে এ বিষয়ে নিজ নাগরিকদের সতর্ক করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই অভিযোগের মধ্যেই বিভিন্ন আফ্রিকান দেশে প্রতারণামূলক নিয়োগের ঘটনা সামনে আসছে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার জানিয়েছে, তাদের ১৭ জন নাগরিক ইউক্রেনে ভাড়াটে বাহিনীতে যোগ দিয়েছে এমন খবরের পর তারা একটি তদন্ত শুরু করেছে। ২০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী এই ব্যক্তিরা দেশে ফিরে আসার জন্য সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, এই যুবকদের " লোভনীয় চাকরির চুক্তির অজুহাতে" ভাড়াটে বাহিনীতে যোগ দিতে প্রলুব্ধ করা হয়েছিল এবং তারা ইউক্রেনে আটকা পড়ার পর আকুতি জানিয়েছেন। তবে তারা কোন পক্ষে যুদ্ধ করছিলেন তা রামাফোসার মুখপাত্র স্পষ্ট করেননি। একই ধরনের ঘটনা কেনিয়ার ক্ষেত্রেও ঘটেছে। গত মাসে কেনিয়া জানায়, তাদের কিছু নাগরিক সংঘাতের বিষয়ে না জেনেই রাশিয়ার বিভিন্ন সামরিক শিবিরে আটকা পড়েছেন।
গত বছর এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, রাশিয়ার তাতারস্তানের একটি ড্রোন প্ল্যান্টে কাজ করার জন্য আফ্রিকার শত শত নারীকে প্রতারিত করে নিয়ে আসা হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার এর আগে আগস্ট মাসেও তরুণীদের সতর্ক করে বলেছিল, রাশিয়ায় চাকরি ও পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার নামে সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া বিজ্ঞাপন ছড়ানো হচ্ছে।
কিয়েভ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ৩৬টি দেশের ১,৪৩৬ জন আফ্রিকান নাগরিককে শনাক্ত করেছে, তবে সিবিহার মতে, রাশিয়ার নিয়োগ দেওয়া মোট সেনার সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তিনি আরও জানান, ইউক্রেনের হেফাজতে থাকা বেশিরভাগ বিদেশি ভাড়াটেকেই তাদের প্রথম অভিযানেই আটক করা হয়েছে।