শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সে নারীদের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধির প্রতিবাদে প্যারিসে বিক্ষোভ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:৫৭ পিএম

ফ্রান্সে নারীদের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধির প্রতিবাদে প্যারিসে বিক্ষোভ
ছবি: AP

ফ্রান্সে নারীদের ওপর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় মঙ্গলবার রাতে প্যারিসের রাজপথে নেমে আসেন শত শত মানুষ। গত সপ্তাহে দেশটিতে সঙ্গীর হাতে পাঁচজন নারীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে সরকারের কাছে বিচার ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে সমবেত বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন যে, নারীদের সুরক্ষায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বাস্তব চিত্র দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। ৭৮ বছর বয়সী অধিকারকর্মী মেরি-জোসে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা বাস্তবতার চাপে পিষ্ট হচ্ছি। মনে হচ্ছে নব্বইয়ের দশকের পর থেকে নারী-পুরুষের সমতার ক্ষেত্রে আমরা পেছনের দিকে হাঁটছি।" বিশেষ করে বয়স্ক নারীদের প্রতি সমাজের উদাসীনতা তাঁকে বিস্মিত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

বিক্ষোভের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই ফরাসি বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিনের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনে পারিবারিক সহিংসতার মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সম্পূর্ণ নিবেদিত নতুন একধরনের বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসকে সামনে রেখে ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লে প্যারিসিয়ান’-এ প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, পারিবারিক সহিংসতা একটি জটিল সমস্যা যার সমাধানে ব্যাপকভিত্তিক ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

 

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ফ্রান্সে এখন পর্যন্ত ১০৭ জন নারী তাঁদের বর্তমান বা প্রাক্তন সঙ্গীর হাতে খুন হয়েছেন, যা গত বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। সরকারি সংস্থা ‘মিপ্রফ’ (MIPROF)-এর সাম্প্রতিক তথ্যমতে, দেশটিতে প্রতিদিন তিনজনেরও বেশি নারী ফেমিসাইড বা নারীহত্যার শিকার হচ্ছেন অথবা হত্যাচেষ্টার মুখে পড়ছেন। আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, সত্তরোর্ধ্ব নারীরা মোট ভুক্তভোগীর ২৬ শতাংশ, যা গত এক বছরে ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

সম্প্রতি ৭২ বছর বয়সী জিসেল পেলিকোতের ওপর ঘটে যাওয়া ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনা সারা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল, যেখানে তাঁর স্বামী তাঁকে চেতনানাশক দিয়ে অচেতন করে এক দশক ধরে ধর্ষণ করিয়েছিলেন। তবে বিক্ষোভকারীরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা মিডিয়ায় ক্ষণিকের জন্য ঝড় তুললেও দীর্ঘমেয়াদী কোনো পরিবর্তন আসছে না।

 

বিক্ষোভকারী ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের বর্তমান পদক্ষেপ এবং বাজেট অত্যন্ত নগণ্য। যেখানে কার্যকর ফলাফল পেতে বছরে ৩০০ কোটি ইউরো প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সেখানে ২০২৫ সালের বাজেটে লিঙ্গ সমতার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৯ কোটি ৪০ লাখ ইউরো।

 

ইউরোপীয় কাউন্সিল ইতিপূর্বে ফ্রান্সে অপরাধীদের শাস্তির হার কম হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফরাসি পার্লামেন্টে নতুন প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা চললেও, বিক্ষোভকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে সরকার পরিস্থিতির গভীরতা ও ভয়াবহতা এখনও পুরোপুরি অনুধাবন করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

 

- Euro News