শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আজারবাইজানে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান পরিকল্পনার অভিযোগে বিরোধীদলীয় শীর্ষ নেতা কারাগারে

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৮:২৪ পিএম

আজারবাইজানে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান পরিকল্পনার অভিযোগে বিরোধীদলীয় শীর্ষ নেতা কারাগারে
ছবি: AP

আজারবাইজানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নাটকীয় ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির অন্যতম প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা এবং আজারবাইজানি পপুলার ফ্রন্ট পার্টির (এপিএফপি) চেয়ারম্যান আলি কারিমলিকে রাষ্ট্রপতি ইলহাম আলিয়েভকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রের গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

সোমবার দেশটির একটি আদালত তাকে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত, অর্থাৎ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এই গ্রেপ্তারের ঘটনা দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিরোধী মতের ওপর সরকারি দমন-পীড়নের বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। শনিবার আজারবাইজানের স্টেট সিকিউরিটি সার্ভিস বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী কারিমলির বাসভবনে এক আকস্মিক অভিযান চালায়।

 

অভিযানের পর তাকে এবং তার দলের আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে মামাদ ইব্রাহিম নামের অপর এক জ্যেষ্ঠ নেতাকেও আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রাক-বিচার আটকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা কারিমলির আইনজীবী রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তার মক্কেল এই সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারিমলির দাবি, এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

 

২০০০ সাল থেকে তিনি পপুলার ফ্রন্ট পার্টির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে সরকারের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, কারিমলির বিরুদ্ধে এই তদন্ত এবং গ্রেপ্তারের সাথে দেশটির সাবেক প্রভাবশালী প্রশাসনিক কর্মকর্তা রামিজ মেহদিয়েভের চলমান ফৌজদারি মামলার গভীর যোগসূত্র রয়েছে। রামিজ মেহদিয়েভ ১৯৯৪ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রপতির প্রশাসনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

সরকারের অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি আলিয়েভকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষে কারিমলিকে আর্থিকভাবে সহায়তা করছিলেন মেহদিয়েভ। বর্তমানে মেহদিয়েভ নিজেও অন্য একটি মামলায় গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই অর্থায়নের মাধ্যমেই রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হচ্ছিল। আলি কারিমলির গ্রেপ্তারের ঘটনা আজারবাইজানের বিরোধী শিবিরের জন্য এক বিশাল ধাক্কা।

 

দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক মহলে আবারও জোরালোভাবে উঠে আসছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দাবি, সরকার ভিন্নমত দমনের কৌশল হিসেবেই এই 'অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্র'র নাটক সাজিয়েছে। অন্যদিকে, সরকারি ভাষ্যমতে, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থেই এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি ছিল। আগামী দিনগুলোতে এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

 

- Times Of Israel