মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চূড়ান্ত হওয়া এই সমঝোতা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এবং ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। তবে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার জন্য বিশেষ কিছু ছাড় বা ‘সাসপেনশন ক্লজ’ রাখা হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের পর পাইপলাইনে কোনো রুশ গ্যাস ইউরোপে প্রবেশ করতে পারবে না।
তবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর গ্যাস মজুদের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই সময়সীমা ওই বছরের ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এই সিদ্ধান্তকে ‘রাশিয়ার ওপর থেকে ইউরোপের জ্বালানি নির্ভরতা মুক্তির যুগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা এই আমদানি স্থায়ীভাবে বন্ধ করছি। পুতিনের যুদ্ধের অর্থভাণ্ডার খালি করার মাধ্যমে আমরা ইউক্রেনের পাশে দাঁড়াচ্ছি।”
পরিসংখ্যান বলছে, ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর আগে ইউরোপের মোট গ্যাসের ৪৫ শতাংশই আসত রাশিয়া থেকে, যা ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে ১৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এই বিশাল হ্রাসের পরেও বেলজিয়াম, ফ্রান্স ও স্পেনের মতো দেশগুলো এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রুশ এলএনজি আমদানি করছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১০ বিলিয়ন ইউরো। নতুন আইনে তুরস্কের মধ্য দিয়ে যাওয়া ‘তুর্কস্ট্রিম’ পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যদি না প্রমাণ করা যায় যে গ্যাসটি রাশিয়া বা বেলারুশে উৎপাদিত নয় বরং অন্য কোনো দেশ থেকে ট্রানজিট হয়ে এসেছে।
অধিকাংশ সদস্য রাষ্ট্র এই নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানালেও হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। সমুদ্রতটবিহীন বা ‘ল্যান্ডলকড’ দেশ হিসেবে তারা জ্বালানি নিরাপত্তার অজুহাতে এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করার পরিকল্পনা করছে। হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজ্জার্তো ব্রাসেলসের এই সিদ্ধান্তকে ‘প্রতারণা’ এবং ইইউ চুক্তির লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করেছেন। তবে আপদকালীন পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এই দুই দেশের জন্য বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে।
যদি কোনো সদস্য রাষ্ট্রের গ্যাস মজুদ ১ নভেম্বরের মধ্যে ৯০ শতাংশের নিচে নেমে যায় এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়, তবেই কেবল ইউরোপীয় কমিশনের অনুমতি সাপেক্ষে তারা সাময়িকভাবে রুশ গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ পাবে। জ্বালানি কমিশনার ড্যান জর্গেনসেন দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন, ইউরোপ আর কখনোই রাশিয়ার অনির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জ্বালানি নিয়ে ব্ল্যাকমেইলের জিম্মি দশায় ফিরে যাবে না।
সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ২০২৬ সালের ১ মার্চের মধ্যে রুশ জ্বালানি নির্ভরতা কমানোর সুনির্দিষ্ট জাতীয় পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ ডিসেম্বর জ্বালানি মন্ত্রীদের বৈঠকে এবং পরবর্তীতে পার্লামেন্টের প্লেনারি ভোটে এই আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।