টুর্নামেন্টের 'গ্রুপ বি'-এর এই দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প আন্তর্জাতিক হকি অঙ্গনে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বিশ্ব হকির পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত লড়াই করেও ৫-৩ গোলের ব্যবধানে হারতে হয়েছিল কোচ সিগফ্রিড আইকম্যানের শিষ্যদের। রোববারের ম্যাচেও শুরুটা ছিল বাংলাদেশের জন্য বেশ হতাশার। ম্যাচের প্রথম বাঁশি বাজার পর থেকেই আগ্রাসী মেজাজে খেলতে থাকে দক্ষিণ কোরিয়া।
ম্যাচের মাত্র অষ্টম মিনিটে লি মিনহিউকের ফিল্ড গোলে এগিয়ে যায় তারা। এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ত্রয়োদশ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কোরিয়ার সন সুংহান। দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও প্রতিপক্ষের আধিপত্য বজায় থাকে এবং ১৭তম মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন মিনহিউক। তখন মনে হচ্ছিল, বড় ব্যবধানে হারের লজ্জাই হয়তো অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য।
কিন্তু তিন গোল হজম করার পর হাল ছাড়তে নারাজ ছিল বাংলাদেশ দল। ম্যাচের চিত্রনাট্য বদলাতে শুরু করে তৃতীয় কোয়ার্টার থেকে, আর এই প্রত্যাবর্তনের মূল নায়ক ছিলেন দলের পেনাল্টি কর্নার বিশেষজ্ঞ আমিরুল ইসলাম। ৩৬তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে তার বুলেট গতির শট কোরিয়ার জালে জড়ালে ব্যবধান ৩-১ এ নেমে আসে। এই গোলটিই দলের ঝিমিয়ে পড়া আত্মবিশ্বাসকে পুনরায় জাগিয়ে তোলে।
ম্যাচের শেষ ও চতুর্থ কোয়ার্টারে বাংলাদেশ আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয় এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত করে তোলে। এই অর্ধে বাংলাদেশ মোট চারটি পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নেয় এবং আমিরুল ইসলাম সেই সুযোগগুলো দারুণভাবে কাজে লাগান। ৪৬তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করার পর, ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে ৫৬তম মিনিটে আরও একটি গোল করে তিনি নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন।
এটি ছিল বিশ্বকাপে তার টানা দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। আমিরুলের এই অসাধারণ নৈপুণ্যেই নিশ্চিত হারের মুখ থেকে এক সম্মানজনক ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে লড়াই এবং কোরিয়ার সঙ্গে এই ড্র প্রমাণ করে যে, বিশ্বমঞ্চে যেকোনো প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মানসিকতা ও দক্ষতা এই দলটির রয়েছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আগামী মঙ্গলবার ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। টানা দুটি ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর দল এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং ফ্রান্সের বিপক্ষেও ভালো ফলের আশা করছেন দেশের হকিপ্রেমীরা।