শুক্রবার ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিংকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই কঠোর বার্তা প্রদান করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এক চরম অস্থিতিশীল ও যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।
সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি গত চল্লিশ দিন ধরে চলা তীব্র সংঘাতের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ, শক্তিধর এবং পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত একটি শক্তির বিরুদ্ধে টানা চল্লিশ দিন ধরে অবিরাম লড়াই চালিয়ে যাওয়া কোনো সাধারণ ঘটনা নয়।
এটি কোনোভাবেই তামাশা বা হেলাফেলার বিষয় হতে পারে না। এই দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্য দিয়ে সমগ্র বিশ্বের সামনে ইরানি জাতির অদম্য সাহস, প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং প্রকৃত সামরিক শক্তি সুস্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয়েছে।
তার মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন গভীরভাবে অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছে যে, ইরান নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
সামরিক ও কৌশলগত হুঁশিয়ারির পাশাপাশি আরাগচি কূটনৈতিক শিষ্টাচার এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়েও অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।
তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক শান্তি ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার স্বার্থে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। বিশেষ করে, এই অঞ্চলের অন্যতম প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ দেশ সৌদি আরবের সঙ্গে একটি টেকসই, শান্তিপূর্ণ এবং গঠনমূলক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে তেহরানের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করেন।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদ এবং তেহরানের মধ্যকার এই কূটনৈতিক উষ্ণতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনীতিতে একটি সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবে।
আঞ্চলিক এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই লেবাননের সশস্ত্র প্রতিরোধ যোদ্ধারা ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর তাদের আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, লেবানন সীমান্ত থেকে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় প্রতিরোধমূলক হামলা চালানো হচ্ছে, যা ওই অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল ও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
এদিকে, চলমান এই বহুমুখী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব মোজতবা খামেনি একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেছেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতে চরম পরাজয় ও ব্যর্থতার সম্মুখীন হওয়ার পর শত্রুপক্ষ এখন তাদের চিরাচরিত কৌশল পরিবর্তন করে ইরানের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র এবং গুপ্ত যুদ্ধের ঘৃণ্য পথ বেছে নিয়েছে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি এক চরম অনিশ্চয়তা এবং গভীর উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে।