শনিবার, জুন ৬, ২০২৬
২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের সঙ্গে নিয়মিত ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রয়েছে- নেতানিয়াহু

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ জুন, ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম

ট্রাম্পের সঙ্গে নিয়মিত ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রয়েছে- নেতানিয়াহু
ছবি : Collected

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের দ্বিপক্ষীয় ও কৌশলগত সম্পর্ক এখনো অত্যন্ত সুদৃঢ় রয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

 

সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপে তীব্র মতবিরোধের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী জানান, মাঝে মাঝে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে কৌশলগত মতপার্থক্য তৈরি হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার অত্যন্ত নিয়মিত ও নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে।

 

তিনি প্রতি দুই দিনে অন্তত একবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা করেন। সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যে সব বিষয়ে সবসময় সম্পূর্ণ একমত হওয়া সম্ভব নয়।

 

অনেক সময় সকালে কোনো বিষয়ে দ্বিমত তৈরি হলেও পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে বিকেলের মধ্যেই তারা একটি সাধারণ ঐকমত্যে পৌঁছে যান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ইসরায়েলের কিছু সুনির্দিষ্ট সাধারণ লক্ষ্য রয়েছে এবং উভয় দেশই যৌথভাবে সেগুলো অর্জন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের অবস্থান ও নীতি সম্পূর্ণ অভিন্ন। ইরানকে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জন্যই একটি বড় আঞ্চলিক হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে নেতানিয়াহু দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করেন।

 

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান ইরানি প্রশাসন ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ায় সেখানে অদূর ভবিষ্যতে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটতে পারে। ইরানের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে নানামুখী ফাটল তৈরি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এই পতন কখন ঘটবে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন।

 

ঐতিহাসিক রোমানিয়া বা বার্লিন প্রাচীরের পতনের মতো ঘটনাও কেউ আগে থেকে অনুমান করতে পারেনি, তবে পরিস্থিতি সেদিকেই অগ্রসর হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার বৈশ্বিক উদ্বেগ নিয়েও কথা বলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

 

তিনি জানান, যেসব দেশ এই রুটের ওপর নির্ভরশীল, তারা ইতিমধ্যে বৈিকল্পিক পথ তৈরি করে নিয়েছে। ফলে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে যে সাময়িক ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা অন্যান্য নিরাপদ রুট দিয়ে পূরণ করা সম্ভব এবং এর ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির কোনো আশঙ্কা নেই।

 

একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে নেতানিয়াহু ইউরোপীয় নেতাদের, বিশেষ করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সাম্প্রতিক ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন।

 

তিনি অভিযোগ করেন যে, ইউরোপের বর্তমান নেতৃত্ব তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে তোষামোদ করছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। ইসরায়েল বর্তমানে যে বৈশ্বিক সভ্যতাকে রক্ষা করার জন্য লড়াই করছে, ইউরোপীয় রাষ্ট্রপ্রধানদের সেই সত্যকে স্বীকার করার এবং ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ানোর সাহসের অভাব রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

 

- ইত্তেফাক