বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের পাল্লা ভারী হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়েছে, এশিয়া টাইমস

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম

ইরানের পাল্লা ভারী হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়েছে, এশিয়া টাইমস
ছবি: সংগৃহীত

হংকংভিত্তিক প্রখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান এশিয়া টাইমসের সাম্প্রতিক এক গভীর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের কৌশলগত প্রাধান্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কার্যত একপ্রকার আত্মসমর্পণের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্বের অন্যতম দুই আধুনিক সামরিক ও প্রযুক্তিগত পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সম্মিলিত আক্রমণ ও সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের মুখেও ইরান বিস্ময়করভাবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় রেখেছে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত ভয়াবহ সংঘাতগুলোতে তেহরান প্রতিপক্ষের সবচেয়ে কঠিন আঘাতগুলো মোকাবিলা করেছে। এর ফলশ্রুতিতে, কঠিন বাস্তবতা শেষে কৌশলগত এবং সামরিক উভয় দিক থেকেই ইরান অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে আসীন হতে সক্ষম হয়েছে এবং প্রবল প্রতিপক্ষকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মতো অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে টানা তিন মাসব্যাপী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংঘাতে লিপ্ত থাকার পর ইরান যে মাত্রায় প্রতিরোধ সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে, তা আন্তর্জাতিক মহলের সাধারণ প্রত্যাশাকে ব্যাপকভাবে ছাড়িয়ে গেছে।

 

বিশ্বের সর্বাধুনিক সমরাস্ত্র এবং গোয়েন্দা প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও মার্কিন বলয় তেহরানের প্রতিরোধ ব্যূহ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রের এই অভূতপূর্ব বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অন্তত কৌশলগত সমীকরণে বর্তমান এই বহুমাত্রিক সংঘাতে তেহরান তার প্রবল প্রতিপক্ষের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে।

 

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রথম সারির প্রভাবশালী দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমসও পরিস্থিতি নিয়ে প্রায় অভিন্ন মত প্রকাশ করেছে। ব্রিটিশ এই সংবাদমাধ্যমের এক বিস্তৃত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে চরম কঠোর ও আগ্রাসী বাগাড়ম্বর এবং একের পর এক সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিকভাবে পিছু হটার এই সিদ্ধান্ত মূলত তার চরম রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অপমানেরই একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

 

সামরিক পদক্ষেপের ভয় দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত দৃশ্যত একটি নরম চুক্তিতে ফিরে আসার কারণে ট্রাম্প প্রশাসনকে দেশে ও বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে।

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কট্টর সমালোচকেরা তার প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর যৌক্তিকতা নিয়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক কিছু প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।

 

তারা জানতে চাইছেন, টানা কয়েক মাস ধরে চলা এই চরম উত্তেজনাপূর্ণ সংঘাত, সামরিক খাতে ব্যয় হওয়া শত শত কোটি ডলারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অত্যাধুনিক অস্ত্রভাণ্ডারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের যে মারাত্মক টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে-ইরানের সঙ্গে বর্তমান এই নতুন চুক্তি বা সমঝোতা কি সত্যিই এত বিশাল ত্যাগের সমান কোনো সুফল বয়ে আনতে পেরেছে? বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই বিশ্বমঞ্চে ট্রাম্প প্রশাসনের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির প্রকৃত মূল্যায়ন নির্ধারণ করবে।

 

- পার্সটুডে