মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্বই টিকত না- ট্রাম্প

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম

আমার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্বই টিকত না- ট্রাম্প
ছবি : Collected

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ সমর্থন এবং নিজের প্রশাসনের নেওয়া বলিষ্ঠ পদক্ষেপ ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব টিকে থাকত না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

ফ্রান্সের এভিয়াঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমিরের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে লেবাননে চলমান সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ করার জন্য তিনি কঠোর বার্তা দিয়েছেন।

 

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে ইসরায়েলের অবস্থান প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র পাশে না থাকলে ইসরায়েল রাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্বই থাকত না।

 

তিনি নিজের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তাঁকে ছাড়া ইসরায়েল আজ এই শক্ত অবস্থানে পৌঁছাতে পারত না, কারণ পূর্ববর্তী কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টই ইসরায়েলের সুরক্ষায় তাঁর মতো এত সাহসী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত ছিলেন না।

 

নেতানিয়াহুর সঙ্গে ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কথা স্বীকার করলেও লেবানন ইস্যুতে ইসরায়েলের বর্তমান আক্রমণাত্মক নীতির তিনি প্রকাশ্যেই সমালোচনা করেছেন।

 

ইরানের সঙ্গে বহুল আলোচিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের চালানো বিমান হামলার ঘটনাটি ট্রাম্পের তীব্র অসন্তোষের কারণ হয়েছে।

 

তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলের ওই পদক্ষেপ তিনি মোটেও পছন্দ করেননি এবং বিষয়টি তিনি ইসরায়েলি প্রশাসনকেও সরাসরি অবগত করেছেন। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযানের ফলে বিপুল সংখ্যক নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

 

সামরিক অভিযানের নামে আবাসিক এলাকায় নির্বিচার হামলার সমালোচনা করে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, কেবলমাত্র একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে পুরো একটি বহুতল ভবন ধ্বংস করে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

 

কারণ ওইসব ভবনে বসবাসকারী সকল সাধারণ মানুষ কখনোই হিজবুল্লাহর সদস্য নয়। বেসামরিক প্রাণহানি এড়াতে তিনি অত্যন্ত অভিনব একটি পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, লেবাননে হিজবুল্লাহকে মোকাবিলার দায়িত্ব সিরিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত, কারণ সিরিয়া এই কাজটি তুলনামূলকভাবে আরও ভালোভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

 

লেবাননে ইসরায়েলের ক্রমাগত হামলা এবং ক্রমবর্ধমান বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় যখন পুরো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য নতুন তাৎপর্য বহন করছে।

 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে যেমন ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক ও শর্তহীন সমর্থনের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন।

 

অন্যদিকে তেমনি লেবাননে সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি কমিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার ওপরও সমানভাবে জোর দিয়েছেন, যা ওয়াশিংটনের চিরাচরিত অবস্থানে একটি সূক্ষ্ম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

- আল জাজিরা