গত রোববার ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর বিশ্লেষণে একে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির চরম মেরুকরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা এহুদ বারাক গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নেতানিয়াহু খুব সহজেই গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করার কৌশল নিতে পারেন।
তিনি যদি এমন কোনো অসাংবিধানিক পদক্ষেপ নেন, তবে ইসরায়েলি জনগণের সামনে লাঠি ও পাথর হাতে রাজপথে নেমে আসা ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ খোলা থাকবে না।
বারাকের দাবি, লেবাননে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করার মাধ্যমে নেতানিয়াহু নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারেন, যার ফলে হিজবুল্লাহ ও ইরান পাল্টা আঘাত হানার সুযোগ পেয়ে যাবে।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেন যে, নেতানিয়াহু মূলত একটি অন্তহীন ও চিরস্থায়ী যুদ্ধ পরিস্থিতি জিইয়ে রাখতে চান। কারণ তিনি খুব ভালো করেই জানেন, যুদ্ধ শেষ হলেই তার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলার বিচার প্রক্রিয়া নতুন করে গতি পাবে।
বারাকের মতে, ঠিক যেভাবে নেতানিয়াহু হামাসের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তি আটকে দিয়েছিলেন, একইভাবে তিনি লেবাননের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথও রুদ্ধ করে রেখেছেন। উল্লেখ্য, ৭৬ বছর বয়সি নেতানিয়াহু ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ইসরায়েলের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রয়েছেন।
তার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থী সরকার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নেতানিয়াহু বর্তমানে ইসরায়েলের আদালতে দুর্নীতির অভিযোগে বিচারাধীন। এছাড়া, গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে রেখেছে।
এই সাক্ষাৎকারে এহুদ বারাক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিরও তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি একে অত্যন্ত নেতিবাচক আখ্যা দিয়ে বলেন, নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত অহংকার ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাবেই আজ ইসরায়েলকে এই চরম মূল্য চোকাতে হচ্ছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর কোনো কৌশলগত লক্ষ্যই ইসরায়েল অর্জন করতে পারেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন। এহুদ বারাকের এমন বিস্ফোরক মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরপরই নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক মিত্রদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির আইনপ্রণেতা এবং ইসরায়েলি পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান বোয়াজ বিসমুথ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে ফৌজদারি তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বিসমুথ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বারাককে প্রথমে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো উচিত এবং তিনি যদি মানসিকভাবে সুস্থ প্রমাণিত হন, তবে অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।