মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লেবাননের প্রতি ‘সম্মান দেখানো’ শান্তিচুক্তির অংশ- ইরান

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬, ০৮:০০ পিএম

লেবাননের প্রতি ‘সম্মান দেখানো’ শান্তিচুক্তির অংশ- ইরান
ছবি: File Photo

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সদ্য চূড়ান্ত হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তিতে লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টিকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

সোমবার (১৫ জুন) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি বিশেষ মতবিনিময়কালে এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিস্তারিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান জটিল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝে তেহরানের এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সুদূরপ্রসারী।

 

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান যে, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অচিরেই যে ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে, তার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো লেবানন ইস্যু।

 

প্রস্তাবিত এই চুক্তির রূপরেখা অনুযায়ী, লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সীমান্ত পরিস্থিতি ও সার্বিক জাতীয় নিরাপত্তার ওপর তেহরান আগামী দিনগুলোতে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে নজরদারি অব্যাহত রাখবে।

 

তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, লেবাননের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক সীমানার অখণ্ডতা যেন কোনো অবস্থাতেই বাইরের কোনো শক্তির দ্বারা লঙ্ঘিত না হয়, তা নিশ্চিত করাটাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই শীর্ষ কর্মকর্তা তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননের সাধারণ ও নিরীহ জনগণের প্রতি গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

 

দেশটিতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনাবলির দিকে সরাসরি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, লেবাননের স্বাধীনতাকামী জনগণের ওপর ইহুদিবাদী শক্তির পরিচালিত ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলা ও আগ্রাসনের মতো ভয়াবহ প্রেক্ষাপটগুলো অত্যন্ত গভীরভাবে বিশ্লেষণ ও বিবেচনা করেই তেহরান শেষ পর্যন্ত এই শান্তি চুক্তিতে সম্মতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

 

তার এই সুনির্দিষ্ট ও কড়া বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত এটিই বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয় যে, সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বিশেষভাবে লেবাননের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের বিষয়টি এই বহুল আলোচিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি প্রক্রিয়ায় একটি বড় ও নির্ধারক প্রভাবক হিসেবে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছে।

 

তবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই চুক্তির আওতায় লেবাননের নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা রক্ষার শর্তগুলো ঠিক কীভাবে বা কোন আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ায় বাস্তবে রূপায়িত হবে, সে বিষয়ে ইসমাইল বাঘাই সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত কোনো কাঠামোগত রূপরেখা বা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।

 

এছাড়া, এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কী ধরনের দাপ্তরিক প্রতিশ্রুতি বা কূটনৈতিক নিশ্চয়তা প্রদান করেছে, তা নিয়েও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও বিশ্লেষক মহলে এখনও যথেষ্ট অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।

 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে যখন এই যুগান্তকারী চুক্তির পূর্ণাঙ্গ দাপ্তরিক খসড়া আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে উন্মুক্ত করা হবে, কেবল তখনই এ বিষয়ে আরও সুনির্দিষ্ট, পরিষ্কার ও প্রামাণ্য তথ্য জানা সম্ভব হবে। আপাতত গোটা বিশ্ব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় রাজনীতিতে এই চুক্তির বাস্তব ও ইতিবাচক প্রভাব দেখার জন্য।

 

- আল জাজিরা