মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচিত হবে ইসরায়েল

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচিত হবে ইসরায়েল
ছবি : Collected

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান তীব্র উত্তেজনা এবং এর বৈশ্বিক প্রভাবের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যকার বর্তমান ভূরাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত বিস্ফোরক’ এবং গভীরভাবে সংকটময় বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রভাবশালী ও প্রথম সারির দৈনিক পত্রিকা 'হারেৎজ'-এর খ্যাতিমান লেখক, বিশ্লেষক ও প্রখ্যাত রাজনৈতিক কলামিস্ট গিদন লেভি।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ ও একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই ত্রিদেশীয় সম্পর্কের চরম টানাপোড়েন, সাম্প্রতিক সংঘাত এবং এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

প্রবীণ এই সাংবাদিকের মতে, বর্তমান বিশ্বরাজনীতির এই জটিল, পরিবর্তনশীল এবং বিপজ্জনক কূটনৈতিক খেলায় দিনের শেষে ইসরায়েল সম্পূর্ণভাবে পরাজিত একটি পক্ষে পরিণত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদি সমীকরণে তারা নিজেদের শক্ত অবস্থান চরমভাবে হারিয়েছে।

 

গিদন লেভি তার অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ও বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের বর্তমান রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি এবং পালাবদলের ওপর বিশদভাবে আলোকপাত করেন।

 

তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চারপাশের নীতিনির্ধারক মহলে এমন একটি নতুন ও শক্তিশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছে, যারা পূর্বসূরিদের মতো ইসরায়েলের অন্ধ সমর্থক নন।

 

বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে, খোদ হোয়াইট হাউসের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে এখন এমন অনেক প্রভাবশালী এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তি রয়েছেন, যারা ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী নীতি ও কার্যকলাপের প্রতি খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়েও অনেক বেশি সমালোচনামুখর এবং কঠোর মনোভাব পোষণ করেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিবর্তিত ও নমনীয়তাহীন পরিস্থিতি ইসরায়েলের জন্য একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক অশনিসংকেত বলে তিনি মনে করেন। ওই তাৎপর্যপূর্ণ সাক্ষাৎকারে এই প্রখ্যাত কলামিস্ট ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একগুঁয়ে রাজনৈতিক পদক্ষেপ এবং যুদ্ধংদেহী মানসিকতার কঠোর সমালোচনা করেন।

 

তিনি ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে একটি ভয়াবহ বিপর্যয়ের বিষয়ে সুস্পষ্ট সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। গিদন লেভি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যদি তার বর্তমান অপরিণামদর্শী ও অনমনীয় নীতি অব্যাহত রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ও ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চিরতরে নষ্ট করার মতো কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করতে সফল হন।

 

তবে ইসরায়েল রাষ্ট্র অচিরেই এমন এক নজিরবিহীন এবং অস্তিত্ব রক্ষার চরম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে, যা দেশটির বিগত কয়েক দশকের ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি।

 

লেভির অত্যন্ত দৃঢ় বিশ্বাস, তেল আবিবের এই চরম কূটনৈতিক ব্যর্থতার নেতিবাচক ফলাফল এবং এর ভয়াবহ পরিণতি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইসরায়েলি জনগণ এবং আন্তর্জাতিক মহলের সামনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উন্মোচিত হবে।

 

সাক্ষাৎকারের একেবারে সমাপ্তি লগ্নে গিদন লেভি একটি অত্যন্ত রূঢ়, তাৎপর্যপূর্ণ ও কঠিন সত্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত জোরালো ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সতর্ক করে বলেন, সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্যক্তিগতভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ইসরায়েল এখন আর কোনো অপরিহার্য কৌশলগত মিত্র বা সম্পদ নয়, বরং একটি বড় ধরনের ‘প্রতিবন্ধকতা’ বা বোঝায় পরিণত হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এই নতুন, জটিল ও সম্পূর্ণ পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন এখন থেকে তেল আবিবের সাথে ঠিক সেই সমীকরণ ও বাস্তবতা মেনেই আচরণ করবে বলে তিনি শতভাগ নিশ্চিত করেছেন।

 

গিদন লেভির এই সময়োপযোগী, বস্তুনিষ্ঠ ও তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ ভবিষ্যৎ রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে মার্কিন কূটনীতির গতিপথ পরিবর্তনের জন্য একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

 

- আল জাজিরা