ইরানি মার্চেন্ট মেরিনার্স সিন্ডিকেটের প্রধান সামান রেজায়েই সম্প্রতি এই গভীর উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি নাবিকের জীবন রক্ষা ও নিরাপদ প্রস্থান নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচলরত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত হুমকি ও হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে এবং উত্তেজনা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সরাসরি ও নির্মম প্রভাব পড়েছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের ওপর। সংঘাতের বলি হয়ে ইতোমধ্যেই হতাহত হয়েছেন অসংখ্য নিরীহ নাবিক, মৎস্যজীবী, বন্দর শ্রমিক এবং নৌ-পাইলটসহ সাধারণ বেসামরিক নাগরিক।
এমন এক দমবন্ধ করা সংকটময় পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরানি মার্চেন্ট মেরিনার্স সিন্ডিকেটের প্রধান সামান রেজায়েই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জোরালো ভাষায় বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, চলমান এই সংঘাতের রাজনৈতিক ফলাফল শেষ পর্যন্ত যা-ই হোক না কেন, আন্তর্জাতিক মহলের সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে আটকে পড়া সব নাবিকের অবিলম্বে নিরাপদ প্রস্থান নিশ্চিত করাই এখন আমাদের প্রধান ও তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
তিনি অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই দীর্ঘ সংঘাতে অসংখ্য নাবিক কেবল হতাহত বা নিখোঁজই হননি, বরং যুদ্ধের ভয়াবহতার কারণে আটকে পড়া নাবিক এবং তাদের অপেক্ষমাণ পরিবারের সদস্যদের ওপর যে দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ক্ষত ও তীব্র মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা কোনোভাবেই সহজে নিরাময় হওয়ার নয়।
তবে এই গভীর অমানিশার মাঝেও যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতির উত্তরণে একটি পর্যায়ভিত্তিক পুনরুদ্ধারের বাস্তবসম্মত রূপরেখা ও আশার আলো দেখিয়েছেন সামান রেজায়েই। জানা গেছে, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।
মূলত এই চুক্তির মাধ্যমেই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। এই চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী ত্রিশ দিনের মধ্যেই ইরান সমুদ্রপথে পেতে রাখা বিপজ্জনক মাইন অপসারণের কাজ সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে শুরু করার সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে।
এই ইতিবাচক অগ্রগতি সত্ত্বেও, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য পুরোপুরি আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা বেশ সময়সাপেক্ষ ও জটিল একটি প্রক্রিয়া।
সামান রেজায়েই জানান, বড় বড় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো পুনরায় এই পথে নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য নিজেদের নিরাপদ মনে করার আগে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাইকরণ সম্পন্ন করতে আরও অন্তত চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ দিন সময় লেগে যেতে পারে।
একই সঙ্গে, সংঘাতের কারণে জাহাজের বিমা খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া এবং এই নৌপথের নিরাপত্তার বিষয়ে বৈশ্বিক ব্যবসায়ীদের মনে যে দীর্ঘস্থায়ী অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে অন্তত আট মাস পর্যন্ত বিলম্ব হতে পারে বলে তিনি যৌক্তিক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।