মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিস্তৃত প্রতিবেদনে এই যুগান্তকারী তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে।
আব্বাস আরাগচি তার পেশাদার ও কূটনৈতিক বক্তব্যে ইরান ও লেবাননের যুদ্ধ অবসানের বিষয়টিকে গভীরভাবে আন্তঃসংযুক্ত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, লেবাননের ভূখণ্ডে যেকোনো ধরনের ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে তেহরান এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবেই বিবেচনা করবে।
তার মতে, লেবাননের ওপর ইসরায়েলের নতুন কোনো হামলাকে কোনোভাবেই আর মেনে নেওয়া হবে না এবং ইসরায়েলি দখলদারিত্বের ধারাবাহিকতা এই শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার আসন্ন আনুষ্ঠানিক আলোচনাটি সুনির্দিষ্টভাবে দুটি ভিন্ন পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। এই আলোচনার প্রথম ধাপে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তকরণ, ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান পুনর্গঠনের মতো অত্যন্ত জরুরি বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।
এরপর আলোচনার দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত পর্যায়ে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো জটিল ইস্যুগুলোর একটি স্থায়ী সমাধান খোঁজা হবে।
এই শান্তি চুক্তি ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ইরানের বন্দরগুলো থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হয়েছে এবং সেখান দিয়ে নিরাপদভাবে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তেলবাহী জাহাজও রয়েছে।
এদিকে, ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। এই চুক্তিটিকে ইরানি গণমাধ্যমগুলো তাদের দেশের এক বিশাল ভূ-রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে সম্প্রচার করছে।
ঘারিভাবাদি জানান, কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় তেহরানে প্রায় পনেরো ঘণ্টার এক দীর্ঘ ও নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার পরই দুই পক্ষ এই ঐতিহাসিক প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব দাবি করেছে, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে তাদের আগ্রাসী অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য করা হয়েছে। তবে, এতো কিছুর পরও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের এখনো গভীর অবিশ্বাস বিদ্যমান এবং বর্তমান চুক্তিটি কেবলই চলমান উত্তেজনা প্রশমনের একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র।