তবে ইসরায়েল সম্ভবত কখনোই ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে জড়াত না। হিব্রু ভাষায় প্রকাশিত অত্যন্ত জনপ্রিয় এই সংবাদমাধ্যমটি তাদের এক বিশেষ নিবন্ধে ইসরায়েলের বর্তমান সামরিক ও কৌশলগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে।
পত্রিকাটির মতে, বর্তমানে ইসরায়েলি প্রশাসন স্বাধীনভাবে কোনো বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারছে না। পাশাপাশি তাদের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থাও আগের তুলনায় অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে তারা মনে করছে।
এই সামগ্রিক নাজুক পরিস্থিতির জন্য প্রতিবেদনটিতে সরাসরি মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিকে দায়ী করা হয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন প্রশাসনের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার ক্ষেত্রে তাদের উপেক্ষাপূর্ণ মনোভাব প্রকারান্তরে ইসরায়েলকে একটি চরম সীমাবদ্ধতার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
মিত্রদের এমন নীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল সমীকরণে ইসরায়েল নিজেদের প্রত্যাশিত অবস্থান ও সামরিক আধিপত্য ধরে রাখতে অনেকাংশেই ব্যর্থ হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকদের জন্য কতটা হতাশাজনক, তা বোঝাতে গিয়ে পত্রিকাটি ইসরায়েলি প্রশাসনের এক পদস্থ ও অত্যন্ত দায়িত্বশীল কর্মকর্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি প্রকাশ করেছে।
ওই শীর্ষ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান যে, তাদের বর্তমান অভ্যন্তরীণ হতাশার মাত্রা এখন কল্পনার সীমাও ছাড়িয়ে গেছে। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ও সরাসরি ভাষায় বলেন, যদি তারা আগে থেকেই বিন্দুমাত্র ধারণা পেতেন যে এই সংঘাতের চূড়ান্ত ফলাফল ঠিক এমন বিপর্যয়ের দিকে যাবে, তবে তারা আদৌ এই যুদ্ধ শুরু করতেন কি না, সে বিষয়ে এখন তাদের নিজেদের মনেই গুরুতর সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পার্সটুডের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর ও সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক ও সামরিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইসরায়েলের প্রথম সারির একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি মূলত তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিমণ্ডল এবং সামরিক নীতিনির্ধারকদের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ও দিকভ্রান্ত হওয়ারই একটি সুস্পষ্ট ও প্রামাণ্য প্রতিফলন।
দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত যে কোনো দেশের জন্যই শেষ পর্যন্ত কতটা নেতিবাচক ও অপ্রত্যাশিত পরিণতি বয়ে আনতে পারে, এই স্বীকারোক্তি তারই একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা বা নতুন কোনো কৌশলগত রূপরেখা প্রণয়নের ক্ষেত্রে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের এই আত্মসমালোচনামূলক বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।