বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রথম রাডার স্যাটেলাইট উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত ইরান

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম

প্রথম রাডার স্যাটেলাইট উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত ইরান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের আবহে ইরান নিজেদের মহাকাশ কর্মসূচিতে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক অতিক্রম করতে যাচ্ছে। অচিরেই দেশটি সম্পূর্ণ নিজস্ব জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে তৈরি তাদের প্রথম রাডার কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণ করবে।

 

ইরানের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপমন্ত্রী এবং জাতীয় মহাকাশ সংস্থার প্রধান হাসান সালারিয়ে সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

সাক্ষাৎকারে তিনি দেশটির চলমান মহাকাশ প্রকল্পগুলোর হালনাগাদ পরিস্থিতি এবং আগামী ইরানি বর্ষপঞ্জির ১৪০৫ সালের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করেন।

 

মহাকাশ গবেষণার ধারাবাহিকতা প্রসঙ্গে হাসান সালারিয়ে জানান, পূর্ববর্তী বছরগুলোর সফলতার ওপর ভিত্তি করে ১৪০৫ সালেও মহাকাশযান উৎক্ষেপণের ব্যাপক ও সুপরিকল্পিত কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি উল্লেখ করেন, ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং অবশিষ্ট প্রকল্পগুলো খুব দ্রুতই সমাপ্তির মুখ দেখবে। অদূর ভবিষ্যতে যে মহাকাশযানগুলো উৎক্ষেপণ করা হবে, তার মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য হলো 'পার্স-২' স্যাটেলাইট। এর পাশাপাশি দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাডার স্যাটেলাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করা হবে।

 

পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এই মহাকাশযানটির প্রাথমিক মডেল তৈরির কাজ ১৪০৪ সালের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে 'শহীদ সোলাইমানি' নামের একটি বিশেষ উপগ্রহমণ্ডলী বা স্যাটেলাইট কনস্টেলেশনের নির্মাণকাজও সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

 

খুব শিগগিরই এই মেগা প্রকল্পের একটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বর্তমান উদ্যোগগুলোর পাশাপাশি নির্মাণাধীন অন্যান্য ভবিষ্যৎ মহাকাশ প্রকল্পগুলোর একটি সুস্পষ্ট রূপরেখাও তুলে ধরেন ইরানের এই শীর্ষ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।

 

তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে 'পার্স-৩' ইমেজিং স্যাটেলাইট তৈরির কাজ চলমান রয়েছে, যা মহাকাশ থেকে অত্যন্ত নিখুঁত ও উন্নতমানের ছবি ধারণে সক্ষম হবে। এছাড়া 'রাড-২' নামক আরও একটি অত্যাধুনিক রাডার স্যাটেলাইটের নকশা প্রণয়নের কাজ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

অন্যদিকে, জাতীয় মহাকাশ গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং স্থানীয় সহযোগী জ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্যোগে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অবস্থানকারী যোগাযোগ স্যাটেলাইট 'নাহিদ-২'-এর একটি উন্নত সংস্করণ এবং নতুন প্রজন্মের 'নাহিদ-৩' স্যাটেলাইট তৈরির কাজও সফলভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

 

ইরানের মহাকাশ শিল্প যে সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব প্রযুক্তি ও অভ্যন্তরীণ প্রকৌশলীদের মেধার ওপর ভিত্তি করে স্বনির্ভরভাবে গড়ে উঠেছে, সে বিষয়টি সালারিয়ে অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন।

 

তিনি স্পষ্ট করেন যে, কৌশলগত নিরাপত্তার স্বার্থে এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর শিল্পের অবকাঠামোগুলোকে দেশের একটি নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন অঞ্চলে বিকেন্দ্রীভূত করে স্থাপন করা হয়েছে।

 

এর ফলে আকস্মিক কোনো দুর্ঘটনায় নির্দিষ্ট কোনো গবেষণাকেন্দ্র বা ভবনের ক্ষতি হলেও দেশের সামগ্রিক মহাকাশ কর্মসূচি কোনোভাবেই থমকে যাবে না। তিনি নিশ্চিত করেন যে সম্প্রতি তাদের কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সেসব প্রতিস্থাপন ও পুনর্গঠনের কাজ চলমান রয়েছে।

 

সার্বিকভাবে, যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের নিবিড় তদারকি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই মহাকাশ বিজয়ের এই নিরবচ্ছিন্ন অগ্রযাত্রা সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

 

ফার্স নিউজ এজেন্সি