বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংঘাত বন্ধে ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬, ০২:০১ পিএম

সংঘাত বন্ধে ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
ছবি : Collected

দীর্ঘ একশত দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা তীব্র সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে অবশেষে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে এই চুক্তিতে নিজেদের আনুষ্ঠানিক সম্মতি প্রকাশ করেছেন। উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তিটি ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে।

 

এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার অবসান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে ফলপ্রসূ আলোচনার পথ সুগম হলো।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তির মূল শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ইরান কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না এবং সব ধরনের সামরিক ক্ষেত্রে অনতিবিলম্বে বৈরিতা বন্ধ করা হবে।

 

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক' নামে পরিচিত এই চুক্তিটি দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যেহেতু চুক্তিটি ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে, তাই সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পূর্বনির্ধারিত স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি আর হচ্ছে না। তবে দুই দেশের আলোচক দল পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও চুক্তি বাস্তবায়নের রূপরেখা নির্ধারণে জেনেভায় মুখোমুখি বৈঠকে মিলিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই চুক্তিটি ইতিমধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিজ দেশের কট্টরপন্থী রাজনৈতিক মহলের তীব্র চাপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

 

কিছু রিপাবলিকান নেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয়তা প্রদর্শন করা হয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসন এই সমালোচনা নাকচ করে দিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

 

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরালোভাবে বলা হচ্ছে যে, এটি কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক কৌশলগত ভিত্তি।

 

মার্কিন নীতিনির্ধারকরা সাধারণ জনগণকে এটি বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, এই কূটনৈতিক বা কূটনৈতিক উদ্যোগ কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা বা পরাজয় নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

 

আল জাজিরা