বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেনেভায় হচ্ছে না চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান, দাবি ইরানের

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম

জেনেভায় হচ্ছে না চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান, দাবি ইরানের
ছবি: Collected

আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে পূর্বনির্ধারিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ বা এমওইউ স্বাক্ষরের যে আনুষ্ঠানিক আয়োজন নির্ধারিত ছিল, সেটি আর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

 

বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই এই তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করেন।

 

তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানদের পর্যায়ে এরই মধ্যে এই চুক্তির চূড়ান্ত স্বাক্ষর পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। যেহেতু দুই দেশের প্রেসিডেন্ট সরাসরি এই চুক্তিতে নিজেদের সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন, তাই কেবল আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার উদ্দেশ্যে জেনেভায় নতুন করে কোনো কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল পাঠানোর আর কোনো যৌক্তিকতা দেখছে না তেহরান।

 

দীর্ঘ ৪০ দিনের ভয়াবহ সংঘাত এবং পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতির নামে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা চরম ভূরাজনৈতিক স্থবিরতার পর এই যুগান্তকারী কূটনৈতিক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

 

গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্র পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে এই চুক্তির একটি বিস্তারিত খসড়া পাঠিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন। ১৪টি সুনির্দিষ্ট পয়েন্ট সংবলিত প্রায় ৮০০ শব্দের এই খসড়া নিয়ে দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অভ্যন্তরীণ ও কূটনৈতিক পর্যায়ে নিবিড় পর্যালোচনা শেষে শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে সম্মত হয় ইরান সরকার।

 

এর ধারাবাহিকতায় বুধবার প্যারিসে অনুষ্ঠিত শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ এর শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

 

এ সময় তার পাশে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কিছুক্ষণ পরই তেহরানে নিজ দপ্তরে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। পরে উভয় দেশের সংবাদমাধ্যমে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের ছবিও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরের ফলে একটি প্রস্তাবিত স্থায়ী শান্তি চুক্তির বিস্তৃত রূপরেখা তৈরি, চুক্তির শর্ত নির্ধারণ, ইরানের বিতর্কিত পরমাণু প্রকল্প এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণসহ অত্যন্ত সংবেদনশীল দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলোতে গঠনমূলক আলোচনার জন্য আগামী ৬০ দিন সময় পাচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরান।

 

চুক্তি অনুযায়ী, এই নির্ধারিত দুই মাস আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বিনা বাধায় অবাধে চলাচল করতে দেবে ইরান।

 

এর বিপরীতে, ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর থেকে চলমান সামরিক অবরোধ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নেবে মার্কিন সামরিক বাহিনী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে পাকিস্তান।

 

বুধবার সন্ধ্যায় উভয় দেশের প্রেসিডেন্টের চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে ঘোষণা করেছেন যে, অবিলম্বে চুক্তির শর্তগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

 

চুক্তিটির বিষয়ে ইরানের কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই আরও উল্লেখ করেন যে, তেহরান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চুক্তির প্রতিটি শর্ত পর্যালোচনা করেছে।

 

বর্তমান জটিল পরিস্থিতিতে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে তাৎক্ষণিক আলোচনায় না গিয়ে চলমান যুদ্ধের দ্রুত অবসান ঘটানোর ওপরই সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, যা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের একটি অত্যন্ত বিচক্ষণ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলে তিনি দাবি করেছেন।

 

- সিএনএন