তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেছেন, এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষ যদি একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে উপনীত হতে ব্যর্থ হয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে যা তেহরান প্রশাসনের জন্য মোটেও সুখকর হবে না।
বিশ্বরাজনীতিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন কড়া হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
মার্কিন অঙ্গরাজ্য মেরিল্যান্ডের সামরিক ঘাঁটি ‘জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে’ আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটি মূলত কাতার সরকারের পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার হিসেবে দেওয়া একটি অত্যাধুনিক বিলাসবহুল বিমানের আনুষ্ঠানিক উন্মোচন উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সামা টিভিসহ বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে যেকোনো আন্তর্জাতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান করেন।
তবে একই সাথে তিনি এটিও পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, যদি দীর্ঘদিনের এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়, তবে মার্কিন প্রশাসন নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো বিকল্প ব্যবস্থা নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। অন্যথায় আমরা এমন কিছু করতে বাধ্য হব, যা তাদের জন্য ভালো কোনো বার্তা বয়ে আনবে না।
তবে একই সাথে কিছুটা নমনীয় সুর প্রকাশ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত হয়তো চরম কোনো সংকটের দিকে যাবে না এবং দুই দেশ একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্মানজনক মীমাংসায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরান এই প্রাথমিক সমঝোতাকে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে রূপ দেওয়ার উদ্দেশ্যে কারিগরি পর্যায়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ঠিক এমন এক সন্ধিক্ষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই নতুন সময়সীমা নির্ধারণ ও কঠোর সতর্কবার্তা ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাড়তি মনস্তাত্ত্বিক চাপে রাখার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।