বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান চুক্তির সমালোচকদের 'হিংসুটে ও বোকা' বলে আখ্যা দিলেন ট্রাম্প

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম

ইরান চুক্তির সমালোচকদের 'হিংসুটে ও বোকা' বলে আখ্যা দিলেন ট্রাম্প
ছবি : Collected

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তির তীব্র সমালোচনা যারা করছেন, তাদের অত্যন্ত কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

এই চুক্তির বিরোধিতাকারী সমালোচকদের তিনি হিংসুটে, বাজে এবং বোকা বলে সরাসরি অভিহিত করেছেন। বেশ কিছুদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কিছু সমালোচক এবং কট্টরপন্থী মহল দাবি করে আসছিলেন যে, ওয়াশিংটন প্রশাসনের গৃহীত এই পদক্ষেপ তেহরানের প্রতি যথেষ্ট কঠোর নয়।

 

মূলত নিজ দেশের অভ্যন্তরে সৃষ্ট এমন রাজনৈতিক সমালোচনার কড়া জবাব দিতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই তীক্ষ্ণ ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

নিজের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রশাসনের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সাফল্যের কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।

 

তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শেয়ার বাজার যখন সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে কমতে শুরু করে সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফেরাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে যারা মনে করছেন যে তিনি ইরানের প্রতি যথেষ্ট কঠোর নন, তারা মূলত চরম অজ্ঞতার পরিচয় দিচ্ছেন।

 

ট্রাম্প তার বার্তায় সুস্পষ্টভাবে বলেন, এই ধরনের সমালোচকরা হয় অত্যন্ত হিংসুটে, নয়তো বাজে প্রকৃতির মানুষ, অথবা তারা নিতান্তই নির্বোধ। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই কড়া ও সরাসরি মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আলোড়ন ও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

 

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের তীব্র সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সম্প্রতি একটি যুগান্তকারী সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্পূর্ণ আধুনিক ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে এই চুক্তিতে নিজেদের আনুষ্ঠানিক সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।

 

উভয় দেশের দায়িত্বশীল সরকারি সূত্রগুলো ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে যে, এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি সফলভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

 

মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের দেওয়া আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির প্রধান ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলির মধ্যে অন্যতম হলো ইরান ভবিষ্যতে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করার কোনো ধরনের চেষ্টা করবে না।

 

এর পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যকার সব ধরনের সামরিক ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধ ও বৈরিতা অনতিবিলম্বে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির স্বার্থে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের অবাধ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির সফল বাস্তবায়ন মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি সুদূরপ্রসারী শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনবে, যা সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতির চাকাকে আরও সচল ও সুরক্ষিত করতে সহায়তা করবে।

 

- ডন