শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নস্যাৎ করতে ইসরায়েলের বেপরোয়া পদক্ষেপের আশঙ্কা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬, ০২:১৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নস্যাৎ করতে ইসরায়েলের বেপরোয়া পদক্ষেপের আশঙ্কা
ছবি : Collected

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এর মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে নতুন করে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

 

তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই উদীয়মান চুক্তি নস্যাৎ করতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অত্যন্ত বেপরোয়া ও উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিতে পারেন।

 

প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি সামনে এনেছে। মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবাননে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন অব্যাহত রাখতে নেতানিয়াহু বর্তমানে প্রবল অভ্যন্তরীণ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন।

 

এমন এক জটিল ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে তিনি যেকোনো মূল্যে এই মার্কিন-ইরান চুক্তি ব্যর্থ করার চেষ্টা চালাতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাবেক ও বর্তমান মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই চুক্তির ফলে লেবাননে নিরবচ্ছিন্নভাবে সামরিক হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে বলে তেল আবিব মনে করছে।

 

আর ঠিক এ কারণেই চুক্তির সার্বিক শর্তগুলো নিয়ে ইসরায়েল প্রশাসন চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। মার্কিন প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননের কোনো অংশ নিজেদের দখলে রাখা ইসরায়েলের জন্য চূড়ান্ত বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

 

দেশটি থেকে অবিলম্বে ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা না হলে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যেকোনো মুহূর্তে নতুন করে সর্বাত্মক সংঘাত শুরু হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার বা হামলা বন্ধ করা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে একটি অভাবনীয় পরাজয় হিসেবেই পরিগণিত হবে।

 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েলের এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নস্যাৎ করার নিরন্তর প্রচেষ্টা ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে।

 

মার্কিন গোয়েন্দারা আরও জানিয়েছেন, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই শান্তি সমঝোতা তেহরান এবং এর মিত্রদের ওপর ক্রমাগত চাপ প্রয়োগের ইসরায়েলি লক্ষ্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে।

 

এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই চুক্তির খসড়া ও শর্তাবলি নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করতে সুইজারল্যান্ডের পথে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি।

 

এরই মধ্যে তারা নিজ নিজ দেশ থেকে ইউরোপের এই দেশটির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউস উইটকফের এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এর বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

 

একইভাবে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ সফর নিয়ে দৃশ্যত নীরবতা পালন করছে। উল্লেখ্য, গতকাল ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে এই গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল, যেখানে মার্কিন উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের।

 

- এএফপি