মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিতে যাচ্ছেন।
ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউস বিশেষ দূত উইটকফের সুইজারল্যান্ড যাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এই সফরের সুনির্দিষ্ট সূচি বা কৌশলগত এজেন্ডা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
অন্যদিকে, তেহরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোতেও তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বিশেষ সফর নিয়ে গভীর গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বৈরী ও উত্তেজনাকর সম্পর্কের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে।
এর আগে গত ১৭ জুন এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থানকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তেহরানে স্বীয় দপ্তরে বসে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একযোগে এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
আটশত শব্দের এই প্রাথমিক চুক্তিতে মূলত ১৪টি সুনির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে, যা উভয় দেশের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি প্রতিষ্ঠার রূপরেখা হিসেবে কাজ করছে। এই চুক্তির অন্যতম মূল শর্ত অনুযায়ী, প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিতে উপনীত হতে হবে।
পূর্বে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন করতে সুইজারল্যান্ডে উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল, যেখানে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকার কথা ছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের।
তবে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে আগেই মূল চুক্তিতে স্বাক্ষর করে ফেলায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন করে সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করে।
তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যেহেতু শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যায় থেকেই চুক্তিটি ইতিমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে, তাই একই উদ্দেশ্যে পুনরায় প্রতিনিধি দল পাঠানোর প্রয়োজন নেই।
তেহরানের এই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের পর ওয়াশিংটন প্রশাসনও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করে এবং সরাসরি খসড়া আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করে।
প্রস্তাবিত এই স্থায়ী শান্তিচুক্তির মূল বিষয়বস্তু অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ভূরাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান যদি ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রতিশ্রুতি প্রদান করে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা আন্তর্জাতিক আর্থিক সম্পদ ও তহবিল দ্রুত অবমুক্ত করবে।
একই সঙ্গে ইরানের ওপর আরোপিত তেল রপ্তানির সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে এবং পূর্ববর্তী সংঘাতের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির জন্য ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
তবে এই নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমার মধ্যে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত না হলে, ইরানের ওপর পুনরায় মার্কিন সামরিক বাহিনী বিমান হামলা শুরু করতে পারে বলে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে এই দুই দেশের মধ্যকার চলমান আলোচনা মধ্যপ্রাচ্য তথা সমগ্র বিশ্বের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।