সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত এই নতুন নির্দেশনার বিষয়ে নিশ্চিত করেছে ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সি ও পার্সটুডে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মানদণ্ড অনুযায়ী অত্যন্ত সংবেদনশীল এই নৌপথের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই নির্দেশনার বিস্তারিত রূপরেখা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ওই সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে আগ্রহী সকল সামুদ্রিক যান বা জাহাজের জন্য বেশ কিছু নতুন শর্তাবলি প্রযোজ্য হবে।
নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যেসব জাহাজ এই শর্তগুলো যথাযথভাবে মেনে তাদের পারাপারের আবেদন জমা দেবে, কেবল তাদের জন্যই দ্রুত ও নির্বিঘ্নে প্রণালিটি অতিক্রম করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আবেদন গ্রহণ ও পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য উপসাগরীয় জলপথ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ একটি নির্দিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইট (পিজিএসএ.আইআর) চালু করেছে।
পাশাপাশি, আবেদনের সর্বশেষ অগ্রগতি বা এ সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের হালনাগাদ তথ্য জানার জন্য একটি অফিশিয়াল ই-মেইল ঠিকানাও (ইনফো@পিজিএসএ.আইআর) প্রকাশ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, পারাপারের আবেদন গ্রহণ ও তা প্রক্রিয়াকরণের জন্য উল্লেখিত মাধ্যমগুলোই একমাত্র সরকারি ও বৈধ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হবে।
নতুন নির্দেশনায় আবেদনকারী জাহাজগুলোর জন্য বেশ কিছু কঠোর ও সুস্পষ্ট নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, আবেদনের সঙ্গে জাহাজের অবস্থান ও নাবিকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত কার্যকর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদান করা।
হরমুজ প্রণালির মতো ব্যস্ত নৌপথের প্রবেশ বা প্রস্থানমুখে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রয়োজনীয় যানজট বা বিলম্ব এড়াতে জাহাজ কর্তৃপক্ষকে অত্যন্ত সতর্ক হতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে যে, কোনো জাহাজ প্রণালিতে পৌঁছানোর নির্ধারিত সময়ের অন্তত আটচল্লিশ ঘণ্টা আগে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সংযুক্ত করে পারাপারের চূড়ান্ত আবেদন জমা দিতে হবে।
বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য একটি বিশেষ সুবিধার কথাও এই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ষাট দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়কালের জন্য কোনো জাহাজের কাছ থেকেই পারাপার বা ট্রানজিট সংক্রান্ত কোনো ধরনের ফি বা শুল্ক আদায় করা হবে না।
এই নির্ধারিত সময়ে জাহাজের সার্বিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা, পরিবেশগত সেবার ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট ইরানি বীমার সম্পূর্ণ খরচ ইরান সরকার নিজ দায়িত্বে বহন করবে। তবে সামুদ্রিক পথে বিরাজমান বিশেষ পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কথা বিবেচনায় রেখে প্রতিটি জাহাজকে যাত্রা শুরুর আগেই তাদের নির্ধারিত রুট ও সময়সূচি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় করতে হবে।
অত্যন্ত সংবেদনশীল এই নিরাপত্তা নির্দেশনা অমান্য করলে কিংবা সমন্বয়ে ব্যর্থ হলে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট জাহাজের মালিকপক্ষের ওপর বর্তাবে বলে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।