মধ্যপ্রাচ্যের বিরাজমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই দুই চিরবৈরী রাষ্ট্রের মধ্যে যেকোনো চুক্তি খুব সহজেই ভেস্তে যেতে পারে বলে তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়কে সতর্ক করে দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে রুশ এই শীর্ষ নেতার এমন গভীর পর্যবেক্ষণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
রুশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ম্যাক্স’-এ দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মেদভেদেভ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিয়ে তাঁর নিজস্ব বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তাঁর মতে, লেবাননে নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন বা অন্য যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত উসকানিমূলক পদক্ষেপ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সম্ভাব্য যেকোনো ভঙ্গুর চুক্তিকে নিমেষেই ধ্বংস করে দিতে পারে।
এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির নেপথ্যের কারণ হিসেবে তিনি সরাসরি ইসরায়েলের বর্তমান কট্টরপন্থী নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন। মেদভেদেভ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর মন্ত্রিসভার রাজনৈতিক অস্তিত্ব মূলত যুদ্ধাবস্থা জিইয়ে রাখার ওপরই সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।
নিজেদের ক্ষমতা সুসংহত রাখতে এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে টিকে থাকতে তাঁদের এই মুহূর্তে যুদ্ধের কোনো বিকল্প নেই। ফলে এ ধরনের একটি অত্যন্ত জটিল ও সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির প্রত্যাশা করাটা মোটেও কোনো যৌক্তিক চিন্তাধারা হতে পারে না।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মেদভেদেভের এই তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন বিশ্ব রাজনীতিতে সম্পূর্ণ নতুন মেরুকরণ চলছে।
উল্লেখ্য, ইউক্রেন সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মস্কো এবং তেহরানের মধ্যে সামরিক, কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পশ্চিমা দেশগুলোর নানামুখী নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করে রাশিয়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে ইরানের সঙ্গে নিজেদের কূটনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
তবে এই ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্বের মধ্যেও বেশ কিছু দৃশ্যমান সীমাবদ্ধতা সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক বহুমুখী উত্তেজনা ও সরাসরি সংঘাতের দিনগুলোতে রাশিয়া সরাসরি কোনো সামরিক হস্তক্ষেপে যায়নি।
বরং নিজেদের কৌশলগত অবস্থানকে তারা মূলত তেহরানের প্রতি জোরালো মৌখিক ও গঠনমূলক কূটনৈতিক সমর্থন প্রদানের মধ্যেই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সীমাবদ্ধ রেখেছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার এই সুচিন্তিত অবস্থান প্রমাণ করে যে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো নতুন বৃহৎ সংঘাতে সরাসরি জড়ানোর পরিবর্তে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার দিকেই অধিক মনোনিবেশ করছে।