শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলে তীব্র জনরোষ, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক বিদায় চান অধিকাংশ নাগরিক

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম

ইসরায়েলে তীব্র জনরোষ, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক বিদায় চান অধিকাংশ নাগরিক
ছবি : Collected

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় ব্যাপক ধস নেমেছে এবং দেশের অধিকাংশ নাগরিকই এখন তাঁর স্থায়ী রাজনৈতিক বিদায় চান।

 

সম্প্রতি দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম চ্যানেল-১২ পরিচালিত একটি নির্ভরযোগ্য জনমত জরিপে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, প্রায় ৫৯ শতাংশ ইসরায়েলি নাগরিক মনে করেন যে, দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা ৭৬ বছর বয়সি এই নেতার অবিলম্বে রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ অবসর নেওয়া উচিত এবং আগামী শরতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে তাঁর আর অংশ নেওয়া কোনোভাবেই সমীচীন হবে না।

 

বিপরীতে, লিকুদ পার্টির এই শীর্ষ নেতার পক্ষে মাত্র ৩৩ শতাংশ ভোটার পুনরায় নির্বাচনের মাঠে থাকার সমর্থন জানিয়েছেন এবং অবশিষ্ট ৮ শতাংশ নাগরিক এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো মতামত প্রকাশ করেননি।

 

বর্তমানে একাধিক দুর্নীতির মামলায় আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো নেতানিয়াহু ভোটারদের নিজের পক্ষে টানতে আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তাঁর প্রতিকূলে চলে যাচ্ছে।

 

আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনকে দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অন্যতম প্রধান মোড় বা টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। মূলত ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের আকস্মিক অভিযানের পর থেকেই নেতানিয়াহুর ওপর জনআস্থা গভীরভাবে ধাক্কা খায়।

 

পরবর্তী সময়ে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানি এবং বিশ্বজুড়ে তেল আবিবের নজিরবিহীন কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এই ক্ষোভকে আরও উস্কে দিয়েছে।

 

এমনকি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে। এই অভ্যন্তরীণ সংকটের মাঝেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক নেতানিয়াহু সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতার আলোকে সুইজারল্যান্ডে আগামী ষাট দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি প্রণয়নের লক্ষ্য নিয়ে গোপন কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা। যদিও ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধা দল হিজবুল্লাহ সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে, তবুও লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংস বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে, যাতে গত দুই দিনে বহু বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

 

ইসরায়েলের দীর্ঘতম মেয়াদের এই সরকারপ্রধানের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে মার্কিন-ইরান এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি, যা সাধারণ ইসরায়েলিদের একাংশ এবং স্থানীয় সামরিক বিশ্লেষকেরা ওয়াশিংটনের এক ধরনের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ ও ‘লজ্জাজনক আত্মসমর্পণ’ হিসেবে দেখছেন।

 

তাঁদের গভীর আশঙ্কা, এই সমঝোতার ফলে ইরান আঞ্চলিকভাবে পূর্বের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে। একই সাথে, লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতা অনেকাংশে সীমিত হয়ে পড়বে, যা দেশটির উত্তর অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার জন্য এক চরম হুমকি ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

- চ্যানেল–১২