আজ বুধবার ইসরায়েলের স্থানীয় সময় বিকেলে চিকিৎসাকেন্দ্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় তিন মাস ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর অবশেষে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
হাইফার রামবাম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গুরুতর আহত ওই প্রবীণ নাগরিকের নাম মাইকেল কাৎজ। গত ৫ এপ্রিল হাইফা শহরে ইরানের ছোড়া একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানলে তিনি সহ আরও বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক মারাত্মকভাবে জখম হন।
ওই একই হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে আরও চারজন ইসরায়েলি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং বহু মানুষ আহত হন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আগামী কাল বৃহস্পতিবার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী হাইফাতে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।
মাইকেল কাৎজের এই আকস্মিক প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছে হাইফা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মাইকেল কাৎজ পেশাগত জীবনে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান 'রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস'-এ অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন।
একজন দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ হিসেবে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে তিনি সুদীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। তার এই চলে যাওয়া দেশের প্রতিরক্ষা খাতের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি বলে উল্লেখ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
অন্যদিকে এপ্রিলের ওই একই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় মাইকেল কাৎজের সঙ্গে তার সহধর্মিণী নিনা কাৎজও গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন। তবে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় তিনি কোনো রকমে প্রাণে বেঁচে যেতে সক্ষম হন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানা গেছে।
এই প্রাণঘাতী হামলাটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সামরিক সংঘাতেরই একটি অংশ। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি বিমান বাহিনী যৌথভাবে ইরানি ভূখণ্ডের ভেতরে বেশ কয়েকটি কৌশলগত ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে অত্যন্ত শক্তিশালী ও সমন্বিত বিমান হামলা পরিচালনা করে।
ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ওই আগ্রাসী যৌথ অভিযানের জবাবে ইরানও অত্যন্ত কঠোর ও পালটা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তেহরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যার একটি অংশ হাইফা শহরের ওই আবাসিক এলাকায় এসে আঘাত হেনেছিল।
একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওই বিমান হামলার তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, রসদ সরবরাহ কেন্দ্র এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে আধুনিক ড্রোন ও নিখুঁত নিশানার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে তীব্র পালটা হামলা চালায়।
যার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এখনো এক চরম যুদ্ধাবস্থা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'টাইমস অব ইসরায়েল'-এর বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।