শনিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২৬
১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় ইপিজেড স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন সাঁকোয়া ব্রিজ এলাকায় বাস্তবায়নের আহ্বান

RNS News

মেহেদি হাসান নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৫, ০৭:০৭ পিএম

গাইবান্ধায় ইপিজেড স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন সাঁকোয়া ব্রিজ এলাকায় বাস্তবায়নের আহ্বান
ছবি: সংগৃহীত

 গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের সাঁকোয়া ব্রিজ এলাকায় ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা) স্থাপনের দাবিতে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 'সাঁকোয়া ব্রিজ ইপিজেড বাস্তবায়ন মঞ্চ, গাইবান্ধা'-এর আয়োজনে শুক্রবার সকালে পৌর শহরের গানাসাস মার্কেটের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মঞ্চের সভাপতি অ্যাডভোকেট কুশলাশীষ চক্রবর্তী এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফারুক কবীর। কর্মসূচিতে বক্তারা গাইবান্ধাকে একটি উন্নয়ন বিচ্ছিন্ন "পকেট শহর" হিসেবে অভিহিত করে এখানে শিল্প-কারখানা ও কর্মসংস্থানের সুযোগের অভাব তুলে ধরেন।

বক্তাদের মতে, সাঁকোয়া ব্রিজ এলাকায় ইপিজেড স্থাপিত হলে পুরো জেলার আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটবে। তাদের যুক্তি, এই এলাকা রেলপথ, সড়কপথ, নদীপথ এবং হেলিপ্যাড সুবিধাসহ একটি সংযুক্ত স্থানে অবস্থিত, যা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পারে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। তারা আরও উল্লেখ করেন যে, সাবেক জেলা প্রশাসক ড. কাজী আনোয়ারুল হক এই এলাকাকে কেন্দ্র করে ইপিজেড গঠনের সুপারিশ পাঠিয়েছিলেন, যা গাইবান্ধাবাসী আন্তরিকভাবে সমর্থন করেছিল।

বক্তারা অভিযোগ করেন, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ষড়যন্ত্র করে সাঁকোয়া এলাকা বাদ দিয়ে বিতর্কিত আদিবাসী সাঁওতাল পল্লীতে ইপিজেড স্থাপনের চেষ্টা করছে, যা মানবিক ও সামাজিক কারণে ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। বর্তমান জেলা প্রশাসকের একতরফা সিদ্ধান্তে গোবিন্দগঞ্জের উর্বর কৃষিজমিতে ইপিজেড স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে – যা পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ ছাড়াই গৃহীত হয়েছে। বক্তারা এটিকে অনৈতিক এবং গাইবান্ধাবাসীর প্রতি চরম অবিচার বলে দাবি করেন। তারা বলেন, একটি নবীন রাজনৈতিক দলের চাপে জেলার ৯০% মানুষের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে, যা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এই প্রস্তাবে সহযোগিতা করে গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্সও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

 

সমাবেশে বক্তারা গাইবান্ধার টেকসই উন্নয়নের জন্য নিম্নলিখিত দাবিগুলো তুলে ধরেন:

  • সাঁকোয়া ব্রিজ এলাকায় দ্রুত ইপিজেড বাস্তবায়ন।

  • বালাসীঘাট থেকে বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত টানেল অথবা সেতু নির্মাণ।

  • গাইবান্ধায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা।

  • গ্যাস সংযোগ ও আধুনিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ।

  • গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের দ্রুত আধুনিকীকরণ।

সমাবেশের শেষে বক্তারা বলেন, গাইবান্ধার উন্নয়ন কোনো দল বা ব্যক্তির বিষয় নয়- এটি জনপদের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। তারা দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এক হয়ে গাইবান্ধার উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এই আন্দোলন গাইবান্ধার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য, যারা কর্মসংস্থান, উন্নয়ন এবং আধুনিক জীবনের সুযোগ চায়। তারা ঘোষণা দেন, এই স্বপ্নের পথ শুরু হোক সাঁকোয়া ব্রিজ এলাকায় ইপিজেড বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই।