রংপুর-৩ (সদর), রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) এবং রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ)-এই তিনটি আসনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে কয়েক হাজার নেতাকর্মী দুপুর ১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং অবিলম্বে পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃত্ব দেন রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা এবং রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম। তাদের মূল অভিযোগ, নির্বাচনের ফলাফলে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা কারচুপির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা অভিযোগ করেন, প্রশাসন ও প্রতিপক্ষ প্রার্থীর যোগসাজশে তাকে পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তার আসনে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার ভোট সন্দেহজনকভাবে বাতিল করা হয়েছে, যা পুনর্গণনা করলে প্রকৃত ফলাফল বেরিয়ে আসবে।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে তিনি আবে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং জেলা প্রশাসকের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তার ভোট ‘ছিনতাই’ করা হয়েছে এবং এর বিচার তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে দিয়েছেন।
অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থীদের এই অভিযোগের বিপরীতে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন রংপুর-৪ আসনে বিজয়ী ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আখতার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকরা হারাগাছ, পীরগাছা ও কাউনিয়া এলাকায় তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা ও ভাঙচুর চালাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে এবং অর্থের বিনিময়ে ভাড়া করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, যেন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় এই সমস্যার সমাধান করা হয় এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
বিক্ষোভ শেষে বিএনপি নেতারা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি ও প্রার্থীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক জানান, তিনটি আসনের বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ভোট পুনর্গণনার লিখিত আবেদন পাওয়া গেছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই অভিযোগপত্রগুলো পরবর্তী দিকনির্দেশনার জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, রংপুর-৩ ও রংপুর-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা এবং রংপুর-৪ আসনে এনসিপির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
এর মধ্যে রংপুর-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নুরুল আমীন এবং বিএনপির সাইফুল ইসলামের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল খুবই কম, যা নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরাজিত প্রার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দাবি মানা না হলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।