শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর মানুষ কিম জং উন

RNS News

মো. মেহেদি হাসান

প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম

বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর মানুষ কিম জং উন
ফাইল ছবি

তার মুখে সবসময় লেগে থাকে এক রহস্যময় হাসি। দেখতে মনে হয় নিতান্তই এক সাধারণ মানুষ। কিন্তু এই হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর দানব। যিনি নিজের গদি বাঁচাতে আপন চাচাকে ফায়ারিং স্কোয়াডে দিতে পারেন, কিংবা নিজের ভাইকে বিদেশের মাটিতে বিষ দিয়ে হত্যা করতে পারেন, তিনি আর যাই হোক, সাধারণ কেউ নন। তিনি উত্তর কোরিয়ার সুপ্রিম লিডার কিম জং উন।

 

বিশ্বের পরাশক্তি আমেরিকা যাকে যমের মতো ভয় পায়, আর নিজের দেশের মানুষ যাকে মনে করে জীবন্ত ঈশ্বর। কেন তাকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর মানুষ? আজকের ভিডিওতে আমরা উন্মোচন করব এই একনায়কের অন্ধকারের গল্প। ২০১১ সাল। বাবা কিম জং ইলের মৃত্যুর পর মাত্র ২৭ বছর বয়সে ক্ষমতায় আসেন কিম জং উন। তখন বিশ্বনেতারা ভেবেছিলেন, এই অনভিজ্ঞ তরুণ হয়তো দেশ চালাতে পারবেন না। কিন্তু কিম বিশ্বকে ভুল প্রমাণ করলেন। তিনি দেশ চালালেন, তবে কলম দিয়ে নয়, রক্ত দিয়ে।

 

ক্ষমতায় বসার পরপরই তিনি শুরু করলেন 'পাজ' বা শুদ্ধি অভিযান। নিজের ক্ষমতার পথে বাধা হতে পারে, এমন সন্দেহে তিনি সেনাপ্রধান থেকে শুরু করে নিজ পরিবারের সদস্যদেরও পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিলেন। তার নিষ্ঠুরতার গল্পগুলো শুনলে গা শিউরে ওঠে। বলা হয়, তিনি তার বিরোধীদের কামানের গোলা দিয়ে উড়িয়ে দিতেও দ্বিধা করেন না। কিম জং উনকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর মানুষ বলার প্রধান কারণ তার 'নিউক্লিয়ার আর্সেনাল' বা পারমাণবিক ভাণ্ডার। অন্যান্য দেশে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য একাধিক স্তরের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।

 

কিন্তু উত্তর কোরিয়ায় কিম জং উনই শেষ কথা। তার টেবিলের ওপর থাকা সেই লাল বোতামে একটি চাপ! আর মুহূর্তেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে লস অ্যাঞ্জেলেস বা টোকিও। তার ভাণ্ডারে আছে হাইপারসনিক মিসাইল এবং সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য পরমাণু বোমা। তিনি বিশ্বকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "আমেরিকা যদি আমাদের দিকে আঙুল তোলে, তবে আমরা তাদের হাত কেটে নেব।" এই বেপরোয়া মনোভাবই তাকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হুমকি বা 'থ্রেট'-এ পরিণত করেছে।

 

কিম জং উন শুধু বিশ্বের জন্যই ভয়ংকর নন, নিজের দেশের মানুষের কাছেও তিনি এক আতঙ্কের নাম। উত্তর কোরিয়া যেন এক বিশাল কারাগার। এখানে ইন্টারনেট নেই, বিদেশি টিভি চ্যানেল নেই, এমনকি জিন্স পরা বা বিদেশি সিনেমা দেখাও মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। তিনি নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যে, দেশের মানুষ তাকে 'মানুষ' নয়, বরং 'দেবতা' মনে করে।

 

ছোটবেলা থেকেই সেখানে শেখানো হয়, আমেরিকা শয়তান আর কিম জং উন ত্রাণকর্তা। কেউ যদি তার ছবি বা মূর্তির অবমাননা করে, তবে সেই ব্যক্তির তিন প্রজন্মকে জেল খাটতে হয়। এমন নিষ্ঠুর আইন পৃথিবীর আর কোথাও নেই। অনেকে তাকে 'পাগল' বা 'রকেট ম্যান' বলে ডাকেন। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলেন, কিম জং উন পাগল নন, তিনি একজন অত্যন্ত ধূর্ত 'জিওপলিটিক্যাল গ্যাম্বলার'।

 

তিনি জানেন, পরমাণু অস্ত্রই তার একমাত্র রক্ষাকবচ। সাদ্দাম হোসেন বা গাদ্দাফির মতো পরিণতি যাতে তার না হয়, সেজন্য তিনি পরমাণু কর্মসূচি থেকে এক চুলও নড়েননি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠক হোক বা ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে অস্ত্র চুক্তি, সবই তিনি করেছেন নিজের শর্তে। তিনি বিশ্বকে জিম্মি করে নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রেখেছেন। পৃথিবীতে অনেক স্বৈরশাসক এসেছেন এবং গেছেন। কিন্তু কিম জং উন তাদের সবার চেয়ে আলাদা।

 

তার হাতে আছে পৃথিবীকে ধ্বংস করার ক্ষমতা, আর মনে আছে দয়ামায়াহীন এক নিষ্ঠুরতা। যতদিন তার হৃৎস্পন্দন চলবে, ততদিন বিশ্বকে থাকতে হবে আতঙ্কে। কারণ, বাঘের পিঠে সওয়ার হওয়া এই নেতা জানেন থামলেই পতন। তাই তিনি থামবেন না।