আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি বৃহৎ ও উন্নত রাষ্ট্রের সমগ্র বিমান পরিবহন ব্যবস্থা ও আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণের মতো জটিল এবং সম্মানজনক পেশায় এটিই কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীর প্রথম পদার্পণ বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে অর্জিত সাদিয়ার এই অসামান্য পেশাদার অর্জন বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে এক নতুন এবং সম্মানজনক উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যা নিঃসন্দেহে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিশাল প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং অনুপ্রেরণার একটি বিষয়।
অত্যন্ত মেধাবী ও দূরদর্শী এই তরুণীর পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের ফেনী জেলার রামপুর এলাকার ঐতিহ্যবাহী আহমেদ আলী পাটোয়ারী বাড়িতে। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসরত প্রবাসী দম্পতি হারুন উর রশিদ এবং ভাবেন্দা হারুনের জ্যেষ্ঠ কন্যা সাদিয়া শুরু থেকেই অত্যন্ত কৃতিত্ব ও সুনামের সঙ্গে তার শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করেছেন।
পারিবারিক সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি তার স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনায় অসামান্য এবং ঈর্ষণীয় ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ অত্যন্ত সম্মানজনক 'স্বর্ণপদক' অর্জন করেছিলেন।
একাগ্রতা, মেধা, কঠোর পরিশ্রম, অসীম ধৈর্য এবং পাহাড়সম দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির সমন্বয়েই যে বিদেশের মাটিতে এমন একটি আন্তর্জাতিক মানের এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল পেশায় সফলভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব, নবনিযুক্ত আকাশপথ নিয়ন্ত্রক সাদিয়া আফরোজ তুরাগ বিশ্বমঞ্চে তারই এক অত্যন্ত উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
কন্যার এই অভাবনীয়, ব্যতিক্রমী এবং ঐতিহাসিক সাফল্যে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত পিতা হারুন উর রশিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিশেষ এবং আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে নিজেদের পরিবারের আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও গর্বের কথা সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।
ওই আনন্দবার্তায় তিনি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের ব্যক্তিগত জানামতে সাদিয়াই হলেন প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় বিমান চলাচল সংস্থায় আকাশপথ নিয়ন্ত্রণের এই গুরুদায়িত্ব লাভ করার গৌরব অর্জন করেছেন।
একজন গর্বিত পিতা হিসেবে তিনি তার কন্যার এই বিশ্বমানের সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশের পাশাপাশি দেশবাসী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করেছেন।
ভবিষ্যতে সাদিয়া যেন তার এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর পেশাগত জীবনে সর্বোচ্চ সততা, নিপুণ দক্ষতা, চরম নিষ্ঠা এবং শতভাগ পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আরও বৃহত্তর সাফল্য অর্জন করতে পারেন, সেই একান্ত প্রত্যাশায় তার পরিবার সকলের কাছে বিনীতভাবে শুভকামনা জানিয়েছেন।