মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ককরোচ জনতা পার্টির প্রধানকে আটক করলো প্রশাসন

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ জুলাই, ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

ককরোচ জনতা পার্টির প্রধানকে আটক করলো প্রশাসন
ছবি : Collected

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ভর্তির সর্বভারতীয় পরীক্ষা বা নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ব্যাপক অনিয়মের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

 

ভারতের যুবনেতৃত্বাধীন নবীন রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি-র পূর্বঘোষিত ‘সংসদ চলো’ পদযাত্রা ঘিরে এই নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে এবং একপর্যায়ে দলটির প্রধান অভিজিৎ দীপকে জোরপূর্বক আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

 

সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই আটকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে, যা চলমান এই ছাত্র আন্দোলনকে আরও বেশি সংঘাতমুখী করে তুলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ভারতের জাতীয় সংসদের বহুল প্রতীক্ষিত বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই এই বিশাল পদযাত্রার ডাক দিয়েছিল সিজেপি। মূলত দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির সুষ্ঠু তদন্ত এবং এই নজিরবিহীন দুর্নীতির দায়ভার মাথায় নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগের এক দফা দাবিতেই হাজার হাজার ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও সিজেপি সমর্থক নয়াদিল্লির রাজপথে নেমে আসেন।

 

লক্ষ লক্ষ মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যখন এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে, তখন তরুণ সমাজের এই ক্ষোভ এক বৃহত্তর আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। তবে দিল্লি পুলিশ আগে থেকেই এই স্পর্শকাতর এলাকায় যেকোনো ধরনের গণজমায়েত ও পদযাত্রার অনুমতি বাতিল করেছিল এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করে রেখেছিল।

 

তা সত্ত্বেও আন্দোলনকারী তরুণ ও শিক্ষার্থীরা তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থেকে পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখাননি, যার ফলশ্রুতিতে এই ব্যাপক সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পোস্টে ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস এই পুলিশি ক্র্যাকডাউনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

 

তিনি দেশের সকল নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দলমত নির্বিশেষে এই ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য এক আবেগঘন ও জোরালো আহ্বান জানান। একই পোস্টে তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে তাদের দলের প্রধান অভিজিৎ দীপকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে।

 

এই আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হাজার হাজার তরুণ ও শিক্ষার্থীর মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়। তরুণ সমাজ মনে করছে, সরকার তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো শোনার বদলে রাষ্ট্রীয় দমনপীড়নের পথ বেছে নিয়েছে।

 

দিল্লি পুলিশ যখন দেখতে পায় যে ১৬৩ ধারা উপেক্ষা করে হাজার হাজার সিজেপি সমর্থক সংসদ ভবনের দিকে ক্রমশ অগ্রসর হচ্ছেন, তখন তারা কঠোর অবস্থান গ্রহণে বাধ্য হয়। ব্যারিকেড ভেঙে আন্দোলনকারীরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য ব্যাপক লাঠিচার্জ শুরু করে।

 

পুলিশের এই আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। রাজপথ মুহূর্তের মধ্যে এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। শুধু লাঠিচার্জই নয়, আন্দোলনকারীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে এবং নতুন করে যেন কোনো জমায়েত হতে না পারে, সেই উদ্দেশ্যে মধ্য দিল্লির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

একটি গণতান্ত্রিক দেশে নিজেদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর এহেন বলপ্রয়োগ ও ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা ভারতজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মূলত এই আন্দোলনের বীজ বপন হয়েছিল বেশ কিছুদিন আগেই, তবে সম্প্রতি প্রখ্যাত সমাজকর্মী ও পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুকের অনশন কর্মসূচি এই বিক্ষোভে নতুন মাত্রা যোগ করে।

 

গত শনিবার অনশনরত অবস্থায় সোনম ওয়াংচুককে পুলিশ জোরপূর্বক তুলে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করলে সাধারণ শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের মধ্যে এক তীব্র ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। ওয়াংচুকের প্রতি সরকারের এই দমনপীড়নমূলক আচরণের প্রতিবাদ এবং নিট কেলেঙ্কারির বিচার-এই দুই ইস্যু একত্রিত হয়ে ককরোচ জনতা পার্টির এই আন্দোলনকে এক অভাবনীয় গতি প্রদান করেছে।

 

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সংবাদ সংস্থাগুলোর আদলে দেখলে, দিল্লির এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল রূপ ধারণ করেছে। দ্য প্রিন্ট, ইন্ডিয়া টুডে এবং এনডিটিভির মতো ভারতের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার এখন পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি।

 

উল্টো ককরোচ জনতা পার্টির প্রধানকে আটকের মধ্য দিয়ে সরকার যে কঠোর বার্তা দিতে চাইছে, তাতে এই যুব আন্দোলন দমে যাবে নাকি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে, তা নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

 

- ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি