মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোদির বাসভবন অভিমুখে আন্দোলনের ডাক রাহুলের

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম

মোদির বাসভবন অভিমুখে আন্দোলনের ডাক রাহুলের
ছবি : Collected

ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় সাম্প্রতিক প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারি ও তরুণদের ওপর পুলিশি নিপীড়নের প্রতিবাদে দেশজুড়ে চলমান ছাত্র আন্দোলনকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী।

 

ভারতের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষাঙ্গনের মর্যাদা রক্ষার এই লড়াইকে কেবল আন্দোলনকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের প্রতিটি নাগরিকের লড়াই হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।

 

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবন অভিমুখে পরিচালিত ঘেরাও ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে দেশের আপামর শিক্ষার্থী এবং দেশপ্রেমিক জনগণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আকুল মিনতি জানিয়েছেন লোকসভার এই প্রভাবশালী বিরোধীদলীয় নেতা।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিশেষ ও জোরালো বার্তায় তিনি দেশের তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এই ঐতিহাসিক আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সেই আবেগঘন ও কড়া বার্তায় রাহুল গান্ধী অত্যন্ত স্পষ্ট ও সংবেদনশীল ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, দেশের শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তার ওপর যেকোনো ধরনের আক্রমণ বস্তুত প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের ওপরই এক সরাসরি আঘাত।

 

 

সাধারণ মানুষের আবেগকে স্পর্শ করে তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হয়তো ভাবছেন যে এই জাতীয় সংকটময় মুহূর্তে তিনি কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে এবং এর দায়ভার এড়িয়ে সম্পূর্ণ পার পেয়ে যাবেন।

 

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই চিন্তাধারাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে রাহুল গান্ধী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, অন্তত এই নির্দিষ্ট সময়ে কিংবা এই নজিরবিহীন দুর্নীতির ক্ষেত্রে মোদি সরকার এভাবে পার পেতে পারবে না।

 

সরকারের উদাসীনতার বিরুদ্ধে জাতীয় ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে তিনি বলেন, যে সমস্ত দেশপ্রেমিক ভারতীয় মন থেকে বিশ্বাস করেন যে আমাদের প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে উপযুক্ত ন্যায়বিচার পাওয়ার যোগ্য, তাদের প্রত্যেকের প্রতি তিনি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন লোক কল্যাণ মার্গের সামনে আয়োজিত তাদের এই সর্বাত্মক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

 

উল্লেখ্য, চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র ভারত জুড়ে যে প্রবল অসন্তোষের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে, তাকে ঘিরে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন মোদি সরকারের ওপর চাপ বৃদ্ধি করতে বিরোধী দল কংগ্রেস তাদের সর্বাত্মক রাজনৈতিক কৌশল প্রয়োগ করছে।

 

এই আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংবেদনশীল ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রার সশরীর নেতৃত্বে হাজার হাজার নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে রাজপথ ধরে পদযাত্রা শুরু করেন।

 

এর ঠিক এক দিন আগেই তরুণদের অধিকার আদায়ের নবীন রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আয়োজিত ‘সংসদ চলো’ পদযাত্রায় দিল্লি পুলিশের নজিরবিহীন কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে।

 

ওই সহিংস পুলিশি অভিযানে পুলিশ ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীসহ প্রায় পৌনে দুই শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হন এবং বেশ কয়েকজন তরুণকে পুলিশ আটক করে। সেই মর্মান্তিক ও বর্বরোচিত ঘটনার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও বেশি ঘোলাটে ও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাহুল গান্ধীর এই প্রকাশ্য ও সংবেদনশীল বার্তা কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক আহ্বান নয়, বরং তা ভারতের ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনমতকে একসূত্রে বাঁধার একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত কৌশল।

 

দেশে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো চরম দুর্নীতির দরুন ইতিমধ্যেই বহু মেধাবী শিক্ষার্থী তীব্র হতাশা ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহননের মতো চরম ও বেদনাদায়ক পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে আসছে।

 

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্ব পদত্যাগ, হতাহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং অনশনরত বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের দ্রুত মুক্তি।

 

এই জাতীয় সংকটময় পরিস্থিতিতে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী যেভাবে নিজেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান অভিভাবক হিসেবে উপস্থাপন করে মোদির বাসভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচিতে দেশবাসীকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, তা ভারতের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে।

 

রাজপথের এই প্রতিবাদ কেবল শিক্ষার দাবিতে থমকে না থেকে এখন দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও সচেতন পরিবারের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে রূপান্তরিত হচ্ছে। রাহুল গান্ধীর এই আহ্বানের পর রাজধানী নয়াদিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর ও জোরদার করা হয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন এলাকা এবং এর আশেপাশের সকল গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ত্রিস্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী। তা সত্ত্বেও, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও দেশের শিক্ষার মান রক্ষার এই ঐতিহাসিক আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ নাগরিক ও তরুণ সমাজের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।

 

সরকারের পক্ষ থেকে এই রাজপথের প্রতিবাদকে প্রতিহত করার নানাবিধ চেষ্টা করা হলেও, বিরোধী দলগুলো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে সাধারণ মানুষের প্রশ্নের উপযুক্ত জবাব এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই নিয়মতান্ত্রিক লড়াই অব্যাহত থাকবে।

 

- এনডিটিভি