সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মামলার বাদী হওয়াকে কেন্দ্র করে চলমান নানা বিতর্ক ও প্রচারণার জবাব দিতে তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি দীর্ঘ বার্তা প্রকাশ করেছেন।
সেখানে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা, মামলার আইনি প্রক্রিয়া এবং ভাইয়ের চিকিৎসার পেছনের অজানা প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। মাসুমা হাদি তার বার্তায় জানান, ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়েই তিনি ঢাকায় ছুটে আসেন এবং এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছানোর পর থেকে এক মুহূর্তের জন্যও ভাইয়ের পাশ থেকে সরেননি।
এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিকে পাশ কাটিয়ে প্রশাসন কেন জাবেরের কাছ থেকে মামলার নথিতে স্বাক্ষর নিল, তা নিয়ে তিনি তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাকে জানানো হয়েছিল যে, হাদির আরেক ভাই ওমর ফারুকের কাছে এ বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছিল।
কিন্তু মাসুমা উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় ওমর ফারুক নিজেই হাদির সঙ্গে একই রিকশায় ছিলেন এবং ভাইয়ের রক্তে তার নিজের শরীর ও পোশাক ভিজে ছিল। সেই চরম মানসিক বিপর্যয় ও চিকিৎসার জরুরি মুহূর্তে ওমরের পক্ষে আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না।
মামলার আইনি দিক বিশ্লেষণ করে মাসুমা হাদি বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারি মামলায় বাদীপক্ষের তাৎক্ষণিক স্বাক্ষরের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে না।
পরিবার মামলা না করলেও পুলিশ নিজস্ব উদ্যোগে প্রাথমিক আইনি কার্যক্রম শুরু করতে পারে। তা সত্ত্বেও নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে কার অনুমতিতে জাবেরকে বাদী করা হলো, সে বিষয়ে তিনি সুস্পষ্ট জবাব দাবি করেছেন।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, হাদির সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক এতটাই গভীর ছিল যে, পরিবারের কাউকে না জানিয়ে এমন একটি সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
ভাইয়ের চিকিৎসার বিষয়েও তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করেন। মাসুমা জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে বাইরের কারো সহায়তা গ্রহণে সম্মতি দেওয়া হয়নি।
হাদির ভাই ওমর ফারুক সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ৫২ লাখ টাকা ব্যয় করে থাইল্যান্ডে চিকিৎসার জন্য বিমানের টিকিট ও অন্যান্য ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছিলেন। পরবর্তীতে সরকারের হস্তক্ষেপে দ্বিতীয় দফায় সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের কাছে নথিপত্র পাঠানো হলে তারা হাদিকে সেখানে নেওয়ার সম্মতি প্রদান করে এবং সরকার চিকিৎসার সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করে।
পরিশেষে মাসুমা হাদি গভীর আক্ষেপের সঙ্গে জানান, ভাই হারানোর এই দুঃসহ শোকের মাঝে পরিবারের বিরুদ্ধে চলমান এই অপপ্রচার অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একজন বিপ্লবীর প্রতি সম্মান জানাতে না পারলেও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে যেন ভিত্তিহীন তথ্যের মাধ্যমে অসম্মান করা না হয়, সেই আকুতি জানিয়েছেন তিনি।