রোববার বিকেল সোয়া তিনটার দিকে মতিঝিলের ঐতিহাসিক শাপলা চত্বর সংলগ্ন জনতা ব্যাংকের সামনের প্রধান সড়কে লোকমান নামের পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সী এক ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালিয়েছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত।
এই সশস্ত্র হামলায় ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ ১৭ লাখ টাকাভর্তি একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায় অপরাধীরা। গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় ওই ব্যবসায়ীকে স্থানীয়দের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে এমন প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনায় ওই এলাকার সাধারণ পথচারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান তালুকদার এই সশস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমের কাছে বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানান, ভুক্তভোগী লোকমান পেশায় একজন মুদ্রা বিনিময় বা মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ী।
ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক কাজে তিনি মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকা দিয়ে নিজের গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই মোটরসাইকেলে করে আসা একদল অজ্ঞাত ও সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে দাঁড়ায়।
কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তাকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি ছোড়ে। এরপর তার সাথে থাকা টাকার ব্যাগটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছিনতাই হওয়া ওই ব্যাগের ভেতরে নগদ সতেরো লাখ টাকা রক্ষিত ছিল। হামলার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও নিশ্চিত করেন যে, বর্বরোচিত এই হামলায় ওই ব্যবসায়ীর শরীরে মোট তিনটি গুলি বিদ্ধ হয়েছে।
এর মধ্যে একটি গুলি তার হাতের কনুইয়ের ঠিক নিচের অংশে এবং অপর দুটি গুলি তার পায়ের হাঁটুর নিচে আঘাত হেনেছে। গোলাগুলির শব্দে চারপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও উপস্থিত সাধারণ পথচারীরা চরম সাহসিকতার সাথে এগিয়ে এসে তাকে দ্রুত উদ্ধার করেন এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠান।
বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রকে শনাক্ত করতে এবং তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে মাঠপর্যায়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এই চাঞ্চল্যকর ডাকাতির বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করেন।
তিনি জানান, পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে যে, মোট ছয়জন দুষ্কৃতকারী তিনটি আলাদা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এই পরিকল্পিত হামলা চালায়।
তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ব্যবসায়ী লোকমানকে অনুসরণ করে আসছিল এবং উপযুক্ত সুযোগ পেয়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এই জঘন্য অপরাধীদের ধরতে পুলিশ ইতোমধ্যে সর্বাত্মকভাবে কাজ শুরু করেছে। জড়িত প্রত্যেক অপরাধীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক চৌকস দল রাজধানীজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।