রবিবার, জুন ৭, ২০২৬
২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিশু রামিসা হত্যা মামলা

আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট পরিবার, দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবি বাবার

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ জুন, ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট পরিবার, দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবি বাবার
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী নিষ্পাপ শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

 

রবিবার, ৭ জুন, ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন জনাকীর্ণ এক আদালতে এই বহু প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা করেন। জঘন্য ও পাশবিক এই অপরাধের মূল হোতা সোহেল রানা এবং এই অমানবিক কাজে তাকে সহযোগিতাকারী তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।

 

আদালতের এই যুগান্তকারী রায়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। দীর্ঘ শোক ও অপেক্ষার পর ন্যায়বিচার পাওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।

 

রায় ঘোষণার পরপরই আদালত প্রাঙ্গণে অপেক্ষমাণ সংবাদকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে নিজের আবেগ, স্বস্তি ও দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন আব্দুল হান্নান মোল্লা। সন্তান হারানোর তীব্র বেদনা বুকে ধারণ করেও তিনি বলেন, "আমরা আদালতের কাছে যে রায় প্রত্যাশা করেছিলাম, আজ ঠিক সেটাই পেয়েছি।

 

এই ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে আমাদের মতো একটি অসহায় পরিবারের আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে।" তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্তে তিনি এবং তার পরিবার পুরোপুরি সন্তুষ্ট।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ও নির্দেশিত সময়ের মধ্যেই এমন একটি স্পর্শকাতর মামলার কাঙ্ক্ষিত রায় পাওয়ায় তিনি দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি পূর্ণ আস্থা ও স্বস্তির কথা জানান।

 

তবে রায় ঘোষণাতেই তার প্রত্যাশা শেষ হয়নি; বরং এই রায় যেন কোনো আইনি দীর্ঘসূত্রতায় আটকে না থাকে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর করা হয়, সেই বিষয়ে তিনি জোরালো দাবি উত্থাপন করেন।

 

একটি অবুঝ শিশুকে এমন পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনাটি গোটা দেশকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। সন্তান হারানোর এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনো সান্ত্বনাতেই মুছবার নয়, তবে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আদেশ শোকাহত পরিবারটিকে কিছুটা হলেও মানসিক শান্তি দিয়েছে।

 

এই ভয়াবহ বিপদের দিনগুলোতে যারা তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের সবার অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন রামিসার বাবা। তিনি বিশেষভাবে বিজ্ঞ বিচারক, পুলিশ প্রশাসন, সাংবাদিক সমাজ এবং দেশের আপামর জনসাধারণের প্রতি অশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

 

তার মতে, দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন, গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর অত্যন্ত দ্রুত ও আন্তরিক তৎপরতার কারণেই এত অল্প সময়ের মধ্যে এই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই আসামিদের মৃত্যুদণ্ড খুব শিগগিরই কার্যকর করা হবে, যা সমাজে একটি শক্ত বার্তা দেবে। এমন কঠোর শাস্তির ফলে ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুকে যেন রামিসার মতো ভয়াবহ পরিণতির শিকার হতে না হয় এবং আর কোনো পিতাকে যেন এমন বুকফাটা আর্তনাদ নিয়ে আদালতের বারান্দায় ঘুরতে না হয়, সেটিই এখন এই শোকাহত পরিবারের একমাত্র চাওয়া।