রবিবার, জুন ৭, ২০২৬
২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশু নির্যাতন রোধে দ্রুত জাতীয় শিশু নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠনের জোরালো আহ্বান

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ জুন, ২০২৬, ০৫:১১ পিএম

শিশু নির্যাতন রোধে দ্রুত জাতীয় শিশু নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠনের জোরালো আহ্বান
ছবি: File Photo

বাংলাদেশে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়া শিশু নির্যাতন ঠেকাতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত ‘শিশু নিরাপত্তা টাস্কফোর্স’ গঠনের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

 

শনিবার রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক বিশেষ গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন।

 

‘বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান শিশু নির্যাতন মোকাবিলা: প্রতিবন্ধকতা, দায়িত্ব ও করণীয়’ শীর্ষক এই উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল।

 

ডেপুটি স্পিকার তাঁর নীতিগত বক্তব্যে শিশু নির্যাতনকে একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, সমাজের গভীরে প্রোথিত এই সংকট কেবল কঠোর আইন প্রয়োগ করে বা শাস্তির ভয় দেখিয়ে নির্মূল করা কখনোই সম্ভব নয়।

 

এই জটিল পরিস্থিতি থেকে স্থায়ী উত্তরণের জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম এবং রাষ্ট্রের সকল স্তরের অংশীজনকে একই ছাতার নিচে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

 

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে সমাজের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন তিনি। এর পাশাপাশি, শিশু নির্যাতনের অন্তর্নিহিত কারণগুলো গভীরভাবে অনুসন্ধান করে বিদ্যমান আইনি কাঠামো, রাষ্ট্রীয় নীতি এবং সুরক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান ঘাটতিগুলো দ্রুত মূল্যায়নের ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।

 

বর্তমান সময়ে শিশুদের ওপর প্রচলিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক অপরাধের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সতর্ক করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

 

তিনি বলেন, শিশুদের জন্য একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ, মানবিক এবং সংঘাতমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে আধুনিক ও টেকসই কৌশল প্রণয়ন করা অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাঠামোগত শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং প্রযুক্তির ইতিবাচক ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

 

তিনি উপস্থিত সকলকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, দেশের প্রতিটি শিশুর সুস্থ শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক অধিকার ও নৈতিক দায়িত্ব।

 

সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তোলা চাঞ্চল্যকর রামিসা হত্যার বিচার প্রসঙ্গেও তিনি রাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের সুস্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি শোকাহত পরিবার ও দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন যে, দেশের সর্বোচ্চ বিচারিক আদালতের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

 

কথার চেয়ে কার্যকর পদক্ষেপে বেশি বিশ্বাসী হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের আইনি, চিকিৎসাসেবা এবং মানসিক সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অপরিসীম মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

 

তিনি জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের নিরলস কার্যক্রম ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি এবং মানসিক ক্ষত কাটিয়ে সমাজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

 

নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলামের সুচারু সঞ্চালনায় এই তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, বরেণ্য অভিনেতা আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল এবং নিহত শিশু রামিসার শোকাহত বাবাসহ দেশের বিশিষ্ট নারী ও শিশু অধিকার কর্মী, উন্নয়নকর্মী এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।