এই অত্যন্ত অমানবিক, সংবেদনশীল ও নিন্দনীয় ঘটনার পরপরই স্থানীয় সচেতন জনতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক তৎপরতায় চারজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
নারী ও শিশুর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতার এই নির্মম ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার কর্মী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে বারোটার দিকে ওই কিশোরী ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মুঠোফোনে কথা বলার জন্য নিজের ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির উঠানে এসে দাঁড়ান।
রাতের সেই নীরবতা ও অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে আগে থেকে ওত পেতে থাকা চার যুবকের একটি সংঘবদ্ধ চক্র অতর্কিতভাবে ওই কিশোরীর ওপর আক্রমণ চালায়।
তারা জোরপূর্বক ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ওই কিশোরীকে তার নিজ বাড়ির সীমানা থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং পার্শ্ববর্তী একটি নির্জন বিলের ধারে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধভাবে পাশবিক নির্যাতন চালায় বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
তবে এই বর্বরোচিত ঘটনার পরপরই বিষয়টি স্থানীয় জনসাধারণের নজরে চলে আসে। তারা অত্যন্ত সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে কালক্ষেপণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেন।
স্থানীয়দের কাছ থেকে সংবাদ পাওয়ার পরপরই সাঘাটা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয় এবং পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে। পুলিশের এই তড়িৎ ও কার্যকর অভিযানে অভিযুক্ত চার যুবককে হাতেনাতে আটক করে আইনানুগভাবে থানায় নিয়ে আসা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক পরিচয় এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আটকেরা হলেন-লাবু মিয়া, নীরব মিয়া, স্বাধীন ব্যাপারী এবং বিপ্লব ওরফে ডিপজল।
পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযুক্ত এই চারজনের মধ্যে লাবু, নীরব ও স্বাধীনের স্থায়ী বসবাস সাঘাটা উপজেলার গাছাবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকায়। অন্যদিকে, অপর অভিযুক্ত বিপ্লব ওরফে ডিপজলের বাড়ি একই উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের ফুটানির বাজার অঞ্চলে।
শনিবার সকালে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমের কাছে এই অমানবিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে জানান, গ্রেপ্তারকৃত চারজন সন্দেহভাজন বর্তমানে থানা হেফাজতে কড়া নিরাপত্তায় পুলিশের নজরদারিতে রয়েছেন।
পুরো ঘটনার একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করার জন্য পুলিশ এখন ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ বা মামলার অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা বা এজাহার দায়ের হওয়ামাত্রই দেশের প্রচলিত কঠোর আইনের আওতায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একই সঙ্গে ভুক্তভোগী কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগও হাতে নেওয়া হয়েছে।