অন্যদিকে, এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় সন্তান হারানো এক শোকাহত পিতা জানিয়েছেন, তাঁরা তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান, তবে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার স্বার্থে হাসপাতালটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হোক-এমনটি তাঁদের কখনোই কাম্য নয়।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার একটি হোটেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের যৌথ উপস্থিতিতে আয়োজিত এক ভাবগম্ভীর সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে বিস্তারিত আইনি অবস্থান তুলে ধরেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে যে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে, তার আনুষ্ঠানিক এবং সন্তোষজনক জবাব আগামীকাল রোববার বিকেল পাঁচটার মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
তবে তাঁর অভিযোগ, নোটিশে আগাম বলে দেওয়া হয়েছে যে জবাব সন্তোষজনক না হলে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে, যা আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং বেআইনি একটি পদক্ষেপ।
একই সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনের সারমর্ম নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন এই আইনজীবী। তিনি জানান, ওই প্রতিবেদনে নবজাতকদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে শিশু ওয়ার্ডে অক্সিজেনের তীব্র ঘাটতি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্তু বাস্তবে ঘটনার সময় সেখানে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক কতটুকু ছিল কিংবা কার্বন ডাই-অক্সাইড কী পরিমাণে উপস্থিত ছিল, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বা বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য তদন্ত প্রতিবেদনে সরবরাহ করা হয়নি।
এমনকি ন্যূনতম কতটুকু অক্সিজেন থাকলে একটি শিশুর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হতো, তারও কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াটি অস্পষ্টতায় ঘেরা বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এই আবেগঘন এবং শোকাবহ পরিবেশে নিজের মতামত ব্যক্ত করেন সদ্য সন্তান হারানো পিতা হাবিবুর রহমান। অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, তাঁরা কেবল চান নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিকে দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক।
কিন্তু চিকিৎসা সেবাদানকারী এই বৃহৎ প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হোক, সেটি তাঁরা কোনোভাবেই চান না। তিনি তাঁর অতীত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে জানান, এর আগেও তাঁর আরও দুই সন্তানের জন্ম এই একই হাসপাতালেই হয়েছিল এবং তাঁরা সম্পূর্ণ সুস্থ ও সুন্দরভাবে পৃথিবীতে এসেছিল।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক ও অনুতাপ প্রকাশ করে। মানবিক দিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই সংবাদ সম্মেলনেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আজীবন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান, যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের একটি যুগান্তকারী ঘোষণা দেওয়া হয়।