শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ মোট এগারোটি বোর্ডে যেসব বিষয়ের পাঠ্যক্রম ও বিষয়বস্তু হুবহু এক, সেসব বিষয়েও একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে আগামী তিন মাসের মধ্যে সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় পঞ্চাশ হাজার নতুন শিক্ষক নিয়োগের একটি বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার, ২২ জুন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জাঁকজমকপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির আসন থেকে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিনির্ধারণী ঘোষণা দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
শিক্ষামন্ত্রী তাঁর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রের নানা দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। সারা দেশে একই মানদণ্ডে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের জন্য অভিন্ন প্রশ্নপত্রের এই সিদ্ধান্তকে দেশের শিক্ষাকাঠামোয় একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট করে জানান যে, পাঠ্যক্রমের অভিন্নতা থাকা সাপেক্ষে সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি-সব ধারার শিক্ষাব্যবস্থায় এই নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে, যাতে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত সুবিধা বা অসুবিধার সম্মুখীন না হয়।
প্রাথমিক শিক্ষায় গতিশীলতা আনা এবং শিক্ষার মৌলিক ভিত্তি মজবুত করার বিষয়টিতেও সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় পঞ্চাশ হাজার যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের বিশাল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ব্যাপারে তিনি জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, দেশের মাদ্রাসা শিক্ষকদের মে ও জুন মাসের বকেয়া বেতন এখনও পরিশোধ না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রশাসনিক জটিলতা ও আর্থিক সমস্যার সমাধানের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেন।
দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও বর্তমান সরকারের গতিশীল নেতৃত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি অত্যন্ত আবেগ ও দৃঢ়তার সঙ্গে উপস্থিত সুধীমণ্ডলী ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, জাতি হিসেবে আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে তারেক রহমানের মতো একজন দূরদর্শী, প্রজ্ঞাবান ও বলিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে পেয়েছি।
তিনি তাঁর দীর্ঘ জীবনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার আলোকে দৃঢ়তার সঙ্গে মন্তব্য করেন যে, বিশ্বপরিমণ্ডলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের মতো এমন সুযোগ্য, বিচক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মানের রাষ্ট্রনায়ক তিনি আর দেখেননি।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি তাঁর গভীর আস্থা এবং দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন রূপরেখার প্রতি বর্তমান প্রশাসনের দৃঢ় অঙ্গীকারের বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঐতিহাসিক ও আনন্দঘন বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে দেশের শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক অভূতপূর্ব মিলনমেলা বসেছিল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আসন অলংকৃত করেন নোয়াখালী-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ মো. শাহজাহান এবং নোয়াখালী-৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম।
এছাড়াও এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষার তদারকি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সুযোগ্য চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী, নোয়াখালী জেলার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
তাঁদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিপুলসংখ্যক শিক্ষক, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিবর্গ এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন, যা অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
দিনব্যাপী আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিক্ষামন্ত্রী অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে কেক কেটে এবং শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনুষ্ঠানিক ও শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উদ্বোধনের পর পরই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে এক বিশাল ও বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
আনুষ্ঠানিকতার দ্বিতীয় পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল মিলনায়তনে এক আড়ম্বরপূর্ণ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে শিক্ষামন্ত্রী নিজ হাতে শিক্ষা ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন বিভাগে মনোনীত মোট একান্ন জন গুণী শিক্ষক ও মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা স্মারক, পুরস্কার ও পদক তুলে দেন।
অনুষ্ঠানের একেবারে শেষ পর্বে একটি অত্যন্ত ভাবগম্ভীর ও আবেগপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অম্লান স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাঁর রুহের মাগফিরাত ও চিরশান্তি কামনায় এক বিশেষ মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এই ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়েই দিনব্যাপী আয়োজিত এই আড়ম্বরপূর্ণ ও সফল অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।