শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬
১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তুরাগে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের লাশ উদ্ধারের খবরটি গুজব বলে পুলিশের ঘোষণা

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

তুরাগে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের লাশ উদ্ধারের খবরটি গুজব বলে পুলিশের ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুরাগ নদীতে ছাত্রলীগের সাতজন নেতাকর্মীর লাশ ভেসে ওঠার যে খবর সাম্প্রতিক সময়ে ভাইরাল হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর।

 

শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বিভ্রান্তিকর তথ্যের সত্যতা অস্বীকার করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠ দিয়ে প্রবাহিত তুরাগ নদীতে এ ধরনের কোনো অমানবিক বা মর্মান্তিক ঘটনার কোনো অস্তিত্ব নেই।

 

মূলত একটি স্বার্থান্বেষী মহল জনমনে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই গুজবটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দিচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান অস্থির সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো এবং জনমনে ভীতি সঞ্চার করার জন্যই মূলত এই ধরনের মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করাই গুজব রটনাকারীদের মূল লক্ষ্য বলে মনে করছে পুলিশ। এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন আরও জানান, তুরাগে লাশের অস্তিত্ব পাওয়ার মতো কোনো ঘটনা পুলিশের রেকর্ডে বা মাঠ পর্যায়ের তদন্তে কোথাও পাওয়া যায়নি।

 

এই ধরনের ভিত্তিহীন খবর ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা থেকে বিরত থাকার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে। গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর স্পষ্ট করেছে যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিছক সংবাদ প্রচার নয়, বরং সাইবার অপরাধের শামিল।

 

যারা এই অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত, তাদের শনাক্ত করতে পুলিশ ইতিমধ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা ও সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করেছে। তদন্তে যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই গুজব ছড়ানোর সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ দিতে পারে, তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ অন্যান্য আইনি ধারায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

পুলিশ এ বিষয়ে কোনো প্রকার ছাড় না দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বেড়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

তাই যেকোনো স্পর্শকাতর খবর বা তথ্যের বিষয়ে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, নির্ভরযোগ্য সূত্র বা জাতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে তথ্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের গুজবকে গুরুত্ব দেওয়ার কোনো কারণ নেই।

 

দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ যেকোনো মূল্যে তৎপর রয়েছে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে এমন যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রুখতে এবং গুজব প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।