শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬
১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর পররাষ্ট্রনীতির নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর পররাষ্ট্রনীতির নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া এবং চীন সফর দেশের নিজস্ব স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্যান্য বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি নতুন এবং সম্মানজনক মানদণ্ড নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

শনিবার সকালে জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের বাজেট পাসের আলোচনা চলাকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। স্পিকার হাফিজ আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদীয় অধিবেশনের ১৬তম দিনের কার্যক্রম শুরু হলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রীর সদ্য সমাপ্ত সফরের ওপর একটি আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

 

গত ২১ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সফরের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উত্থাপিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারের কূটনৈতিক সফলতার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুণগত পরিবর্তনের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।

 

স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে পূর্ণ ঐকমত্য পোষণ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিন ধরে একটি ইতিবাচক ও পরিশীলিত পরিবর্তনের যে অভাব অনুভূত হচ্ছিল, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তার ব্যক্তিগত আচরণের মধ্য দিয়ে সেই পরিবর্তনের সূচনা করেছেন।

 

অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরকারপ্রধানদের বিদেশযাত্রা বা প্রত্যাবর্তনের সময় বিমানবন্দরে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে যে বিশাল সংবর্ধনা বা লোকদেখানো আনুষ্ঠানিকতার রেওয়াজ প্রচলিত ছিল, প্রধানমন্ত্রী এবার তা সম্পূর্ণভাবে পরিহার করেছেন।

 

এই অনাড়ম্বর ও সাদামাটা বিদায় এবং অভ্যর্থনা আগামী দিনের বাংলাদেশের রাজনৈতিক শিষ্টাচারের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে তিনি মনে করেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর এই দ্বৈত রাষ্ট্র সফরের মূল কূটনৈতিক দর্শন ও কাঠামোগত দিকগুলো বিশ্লেষণ করে অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান যে, এই আন্তর্জাতিক ভ্রমণের প্রধান ভিত্তি ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা, উভয় দেশের জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ, কোনো স্বাধীন ভূখণ্ডের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ না করা এবং সর্বোপরি নিজস্ব কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অক্ষুণ্ণ রাখা।

 

তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেন যে, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অতীতে বিশ্বের প্রতিটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের যে মজবুত মানদণ্ড এবং দূরদর্শী বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তার এই সময়োপযোগী সফরের মাধ্যমে সেই সম্মানজনক ধারাকেই সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

 

আন্তর্জাতিক দরকষাকষি ও চুক্তির ক্ষেত্রে দেশের অখণ্ডতা এবং সাধারণ জনগণের বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষায় বর্তমান সরকার কোনো অবস্থাতেই বিন্দুমাত্র আপস করবে না বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।

 

কূটনৈতিক সম্পর্কের বাইরেও এই সফরের সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কথা অত্যন্ত বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশের বিশাল শ্রমবাজারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থ গভীরভাবে জড়িত রয়েছে।

 

প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও নতুন কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও আমাদের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান, যা এই সফরের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

 

অন্যদিকে, বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক বাণিজ্য অংশীদার হলো চীন। চীনের সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন মেগা অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে কীভাবে ওই দেশের বিশাল বাজারে বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্যের রপ্তানি আরও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা যায়, সফরে সেই অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও উভয় পক্ষের মধ্যে বেশ ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।

 

সার্বিক দিক বিবেচনা করে অর্থমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকারপ্রধানের এই সফল ও সময়োপযোগী সফর শুধুমাত্র আগামী দিনের বাংলাদেশের সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেই গভীর প্রভাব ফেলবে না, বরং পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ঠিক কেমন হওয়া উচিত, তার একটি অত্যন্ত স্পষ্ট, স্বাধীন এবং মর্যাদাপূর্ণ মানদণ্ড চিরতরে স্থাপন করেছে।

 

এই ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমেই বাংলাদেশ আগামী দিনে একটি স্বনির্ভর ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।