রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পূর্বনির্ধারিত সফর সাময়িকভাবে স্থগিত

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:২০ পিএম

ফেনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পূর্বনির্ধারিত সফর সাময়িকভাবে স্থগিত
ছবি: সংগৃহীত

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী জেলার পূর্বনির্ধারিত সফরটি অনিবার্য কারণবশত সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ফেনী জেলার অন্তর্গত পরশুরাম এবং ফুলগাজী উপজেলায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সফরটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

 

তবে আকস্মিক এক প্রশাসনিক নির্দেশনার প্রেক্ষিতে উক্ত সফরটি নির্ধারিত তারিখে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী, আগামী মাসের শুরুতে অর্থাৎ ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের নতুন সম্ভাব্য তারিখ প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টার দিকে ফেনী জেলার সম্মানিত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছে এই সফর স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এদিন সকালেই স্থানীয় জেলা প্রশাসনের কাছে এই পরিবর্তিত সময়সূচি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে।

 

জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে বলেন, 'আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত সফরটি স্থগিত করার বিষয়ে আমাদেরকে সরাসরি অবহিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী ১ অক্টোবর এই সফরের একটি নতুন সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করার বিষয়টিও প্রশাসনিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।'

 

এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের সফরকে কেন্দ্র করে বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই সমগ্র ফেনী জেলাজুড়ে ব্যাপক ও নিশ্ছিদ্র প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছিল। বিশেষ করে পরশুরাম এবং ফুলগাজী এলাকার স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন শাখা এবং সাধারণ মানুষের মাঝে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ ও অভাবনীয় কর্মচাঞ্চল্য বিরাজ করছিল।

 

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য আগমন উপলক্ষে উক্ত উপজেলাগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের তদারকি এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল।

 

স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিটি স্তরই এই রাষ্ট্রীয় সফরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছিল, যাতে সরকারপ্রধানের পুরো সফরটি সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন, সুশৃঙ্খল ও ত্রুটিমুক্তভাবে সম্পন্ন হয়।

 

ফেনী জেলার সীমান্তবর্তী পরশুরাম এবং ফুলগাজী উপজেলা দুটি ভৌগোলিক, কৌশলগত এবং আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে জাতীয়ভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে মুহুরী নদীর পানির তোড়ে এই অঞ্চলগুলোতে যে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তা মোকাবিলায় স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে।

 

এই অঞ্চলগুলোতে চলমান সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তব অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন এবং স্থানীয় জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরাসরি দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্যই প্রধানমন্ত্রীর এই সফরটি অত্যন্ত জরুরি ও সময়োপযোগী বলে বিবেচিত হচ্ছিল।

 

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় সাধারণ নাগরিক, কৃষক, শ্রমিক এবং জনপ্রতিনিধিদের মাঝেও বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। বিশেষত অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধ এবং কৃষিখাতের আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ঘোষণা বা নির্দেশনার দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে ছিলেন সংশ্লিষ্ট এলাকার লাখো বাসিন্দা।

 

তবে বর্তমান এই আকস্মিক স্থগিতাদেশের ফলে স্থানীয় প্রশাসনকে তাদের চলমান সার্বিক প্রস্তুতিমূলক কাজগুলোর সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। যদিও সফরটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি, বরং প্রশাসনিক সুবিধার কারণে সাময়িকভাবে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাই প্রশাসনিক তৎপরতায় কোনো ধরনের স্থবিরতা আসবে না বলেই সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই অতিরিক্ত সময়টুকু যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর আগমনের সার্বিক প্রস্তুতিকে আরও নিখুঁত, সুরক্ষিত ও সুশৃঙ্খল করার একটি অভাবনীয় সুযোগ পাবে।

 

বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে শুরু করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এখন আগামী ১ অক্টোবরের সম্ভাব্য তারিখকে সামনে রেখেই তাদের নতুন কর্মপরিকল্পনা ঢেলে সাজাচ্ছে।

 

সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানদের নির্ধারিত সফরের সময়সূচিতে এ ধরনের পরিবর্তন নিতান্তই একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। রাষ্ট্রীয় অত্যন্ত জরুরি কোনো অভ্যন্তরীণ কাজ, আন্তর্জাতিক বা জাতীয় পর্যায়ের অগ্রাধিকারমূলক নীতি নির্ধারণী কোনো বিষয় কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়াজনিত যেকোনো যৌক্তিক কারণে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতে পারে।

 

এতে স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বা সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন দর্শনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ার বিন্দুমাত্র আশঙ্কা নেই। ফেনীর আপামর সাধারণ জনগণ ও স্থানীয় প্রশাসন এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নতুন তারিখের চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

 

প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিত প্রত্যাশা, আগামী ১ অক্টোবর এই প্রতীক্ষিত সফরটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এবং যথাযথ উৎসবমুখর পরিবেশে অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হবে। এই সফরের মধ্য দিয়ে পরশুরাম ও ফুলগাজীসহ সমগ্র ফেনী জেলার সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এবং অবকাঠামোগত অগ্রযাত্রায় একটি নতুন ও যুগান্তকারী মাত্রা যোগ হবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন স্থানীয় সচেতন মহল।