রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীন থেকে দ্রুতগতির ট্রেন আনার আলোচনা চলছে!

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম

চীন থেকে দ্রুতগতির ট্রেন আনার আলোচনা চলছে!
ছবি: সংগৃহীত

দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে চীন থেকে অত্যাধুনিক ও দ্রুতগতির ট্রেন আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

 

রোববার দুপুরে শেরপুর জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দেশের এভিয়েশন খাতের সম্প্রসারণ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একটি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের সম্ভাবনার কথাও তিনি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।

 

যোগাযোগ খাতের আধুনিকায়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বিস্তারিত জানান যে, বর্তমান সরকার রেলওয়ে যোগাযোগব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কথা ভাবছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চীনের সঙ্গে উচ্চগতির ট্রেন প্রযুক্তি দেশে নিয়ে আসার প্রাথমিক কথাবার্তা চলমান রয়েছে।

 

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, চীনে এই ধরনের দ্রুতগতির ট্রেনগুলো সাধারণত ঘণ্টায় সাড়ে তিনশো কিলোমিটার বেগে চলাচল করে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক আয়তন ও কাঠামোগত বাস্তবতায় ট্রেনের গতি এর চেয়ে কিছুটা কম হলেও তা দেশের সার্বিক যোগাযোগে অভাবনীয় গতিশীলতা নিয়ে আসবে।

 

এই উদ্যোগ সফল হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে অন্যান্য জেলার যাতায়াত সময় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সভায় দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিগত সরকারের পতন নিয়েও অত্যন্ত খোলামেলা মন্তব্য করেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

 

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গের দেশত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গণরোষের মুখে সম্পূর্ণ একটি সরকারের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং প্রভাবশালী নেতাদের এমন দলবদ্ধভাবে পালিয়ে যাওয়ার কোনো নজির পৃথিবীর ইতিহাসে দ্বিতীয়টি নেই।

 

সদ্য ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যারা আগামী ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা বা পুনরায় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার দিবা স্বপ্ন দেখছেন, তাদের সেই আশা সম্পূর্ণ অমূলক।

 

বরং বর্তমান বাস্তবতায় ওই দলের নেতাকর্মীদের নিজেদের রাজনৈতিক ভুলত্রুটি স্বীকার করে আত্মশুদ্ধির প্রক্রিয়ায় মনোনিবেশ করা উচিত বলে তিনি পরামর্শ দেন। বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রী বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সারা দেশে বর্তমানে মোট আটটি বিমানবন্দর চালু রয়েছে।

 

তবে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এর মধ্যে কয়েকটি বিমানবন্দরের অবস্থা বেশ নাজুক। আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের জন্য দেশে বেশ কয়েকটি নতুন আধুনিক উড়োজাহাজ আসতে যাচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

 

ক্রমবর্ধমান যাত্রীর চাপ ও উড়োজাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামী দশ বছরের মধ্যে দেশে সম্পূর্ণ নতুন একটি বিমানবন্দর নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। আর এই নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের ক্ষেত্রে দেশের ময়মনসিংহ বিভাগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

 

এর ফলে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষের জন্য আকাশপথের যোগাযোগ অনেক বেশি সহজলভ্য হবে। পর্যটনশিল্পের বিকাশ ও শেরপুর জেলার স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়েও মন্ত্রী তার বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

 

তিনি জানান, শেরপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন খাতকে আরও আকর্ষণীয় করতে ঝিনাইগাতী উপজেলায় একটি আধুনিক পান্থশালা নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যার হাত থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করতে মহারশি এবং সোমেশ্বরী নদীতে শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।

 

এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে শেরপুরের আর্থসামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ মাসিক সমন্বয় সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরী এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য চিকিৎসক সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা।

 

এছাড়াও জেলার পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এ বি এম মামুনুর রশিদ পলাশসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

 

এর আগে, সকালে মন্ত্রী সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে এসে পৌঁছালে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।