ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সংলাপে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা এস কে বশির উদ্দিন। তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগ দিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের কৃষি, জ্বালানি, বাণিজ্য এবং কপিরাইট এজেন্সির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আলোচনার প্রথম দিন অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্কের প্রায় সমস্ত দিক, যেমন— তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শুল্ক হার, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার (জিএসপি) পুনর্বহাল, কৃষিপণ্য রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধি এবং মেধাস্বত্ব আইন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য আরও সহজ ও ন্যায্য প্রবেশাধিকারের ওপর জোর দিয়েছে। বিশেষ করে, তৈরি পোশাক শিল্পের ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর বিষয়টি বাংলাদেশের প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তু।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগের সুরক্ষা, জ্বালানি খাতে এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের প্রসারে স্বচ্ছ নীতিমালার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। উভয় পক্ষই একটি বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সহযোগিতামূলক পরিবেশে আলোচনা নিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আলোচনার পরবর্তী বৈঠকটি বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় পুনরায় শুরু হবে এবং শুক্রবার পর্যন্ত এই আলোচনা চলবে। এই সংলাপের মাধ্যমে শুল্ক ও বাণিজ্য সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান আসবে বলে উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও নীতি নির্ধারকরা আশাবাদী। একটি সফল আলোচনা দুই দেশের জন্যই ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে এবং আগামী দিনে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
---