বাণিজ্য উপদেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক:
দ্বিতীয় দিনের আলোচনার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (USTR) অ্যাম্বাসেডর জেমিসন গ্রিয়ারের একান্ত বৈঠক। মার্কিন প্রশাসনে অত্যন্ত প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে বাণিজ্য উপদেষ্টা বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বাণিজ্য সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ শুধু যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিই নয়, বরং সেখান থেকে আমদানিও বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ তার রপ্তানি পণ্যের জন্য একটি ন্যায্য শুল্ক ব্যবস্থা প্রত্যাশা করে, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় থাকে। জবাবে, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
আলোচনার অগ্রগতি ও অমীমাংসিত বিষয়:
বৈঠকে দু'দেশের প্রতিনিধিরা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বাণিজ্য-সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে নিজেদের যুক্তি ও অবস্থান তুলে ধরেন। যদিও অনেক বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে, কিছু কৌশলগত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি। শুক্রবার (ওয়াশিংটন সময়) আলোচনার শেষ দিনে এই অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষ আলোচনায় বসবে বলে জানা গেছে। এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তার সঙ্গে ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। এছাড়া বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং অতিরিক্ত সচিব ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী ওয়াশিংটনে সরাসরি উপস্থিত রয়েছেন। সরকারের अन्य উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও ভার্চুয়ালি এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। এই আলোচনাকে দু'দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
---