মঙ্গলবার, জানুয়ারী ২০, ২০২৬
৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে ২২ ঘণ্টার কারফিউ জারি

RNS News

মেহেদি হাসান

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই, ২০২৫, ০২:০৭ পিএম

গোপালগঞ্জে ২২ ঘণ্টার কারফিউ জারি
ছবি: সংগৃহীত

জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গোপালগঞ্জে বুধবার (১৬ জুলাই) রাত ৮টা থেকে পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২২ ঘণ্টার জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া অস্থিরতা ও সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কারফিউ চলাকালীন সময়ে জনসাধারণের চলাচল সীমিত থাকবে এবং বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হতে পারবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে থাকবে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।

 

প্রসঙ্গত, জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করছে। মাসব্যাপী এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ গোপালগঞ্জে দলটির পদযাত্রা ছিল। গতকাল মঙ্গলবার দলের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এই কর্মসূচিকে ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ নাম দেওয়া হয়।

এই কর্মসূচি ঘিরে গোপালগঞ্জ সদরে আজ সকালে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। কাছাকাছি সময়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি বহরেও হামলা চালানো হয়। এই দুই ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে গোপালগঞ্জ পুলিশ জানিয়েছে।

 

দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় এনসিপির সমাবেশ মঞ্চে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। তারা মঞ্চে থাকা সাউন্ড বক্স, মাইক ও চেয়ার ভাঙচুর করে এবং এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। পরে এনসিপির নেতাকর্মীরা পুলিশের সহায়তায় সেখান থেকে সরে যান। আধা ঘণ্টা পর ওই সমাবেশ স্থলেই পুলিশি নিরাপত্তায় সমাবেশ করে এনসিপি।

সমাবেশ শেষ হওয়ার পর এনসিপির নেতারা যখন মাদারীপুর রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন ছাত্রলীগের কয়েকশ' নেতাকর্মী আবার তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পুলিশও পিছু হটে। এনসিপির নেতাকর্মীরা পালিয়ে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা এনসিপির সমাবেশ মঞ্চ এবং আশপাশের বিভিন্ন স্থানে চেয়ার-টেবিল ও আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দিলে শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 

এরপর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে হামলাকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়, যা গোপালগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় বিজিবি। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও বাড়তি জনবল নিয়োজিত করা হয়। বিকেলের দিকে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে হামলা ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া যায়। এরপর সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ একযোগে হামলাকারীদের সরাতে অভিযান শুরু করে।